উত্তর প্রদেশের কানপুর জেলার ঘাটমপুরে এক মুসলিম যুবককে প্রকাশ্যে অপমান ও মারধরের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই পুলিশি আচরণ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত যুবকের নাম আমির জাইদি বলে জানা গিয়েছে।
জানা গেছে, এক তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে জাইদিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযোগে বলা হয়, তিনি ওই তরুণীকে সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে বিয়ের জন্য চাপ দেন এবং ধর্ম পরিবর্তনের কথাও বলেন।
তবে ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, গ্রেপ্তারের পর জাইদিকে খালি পায়ে ব্যস্ত রাস্তায় হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। চারপাশে লোকজনের সামনে হাত জোড় করে তাকে বারবার বলতে শোনা যায়, তিনি ভুল করেছেন এবং আর কোনও মেয়ের দিকে তাকাবেন না। অভিযোগ, পুলিশ সদস্যরা তাকে মারধর করে এই কথা বলাতে বাধ্য করেন।
এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীরা। কানপুরের এক আইনজীবী বলেন, আদালতে দোষ প্রমাণের আগেই কাউকে এভাবে শাস্তি দেওয়া আইনবিরুদ্ধ। সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার অধিকার দিয়েছে। পুলিশের কাজ তদন্ত করা, প্রকাশ্যে অপমান করা নয়।
অন্যদিকে সমাজকর্মীদের একাংশের মতে, রাজ্যে আন্তঃধর্মীয় সম্পর্কের ঘটনায় মুসলিম যুবকদেরই বেশি লক্ষ্য করা হচ্ছে। একই ধরনের অভিযোগে অন্য সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে এমন কড়া ব্যবস্থা দেখা যায় না বলেও অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী অভিযুক্তকে প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা বেআইনি। বর্তমানে জাইদিকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। তবে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও উচ্চস্তরের হস্তক্ষেপের দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।


