চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর নদিয়া জেলায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জেলার বহু বুথে দেখা যাচ্ছে, অসংখ্য ভোটারের নামের পাশে ‘বিচারাধীন’ উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে প্রায় ২ লক্ষ ৬৭ হাজার ৯৪০ জনের ভোটাধিকার এখন আইনি প্রক্রিয়ার ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।কৃষ্ণনগর-১ ব্লকের রুইপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েতের এক তৃণমূল সদস্য ইনার আলি শেখ জানান, তার পরিবারের তিনজনের নাম এই তালিকায় রাখা হয়েছে। তার দাবি, তার মায়ের নাম বহু বছর ধরেই ভোটার তালিকায় রয়েছে। ছেলে ও মেয়ের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় নথি আগেই জমা দেওয়া হয়েছিল। তবুও তাদের ‘বিচারাধীন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।একই পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন কালীগঞ্জ ব্লকের তৃণমূল সহ-সভাপতি জিয়াউর রহমান। তিনি দেবগ্রাম পঞ্চায়েতের একটি বুথের ভোটার। শুনানির জন্য ডেকে কমিশনের চাওয়া সব কাগজ জমা দেওয়ার পরও তার নাম চূড়ান্ত তালিকায় বিচারাধীন হিসেবে রয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—তাহলে পাসপোর্ট বা শিক্ষাগত সনদের মতো নথিও কি যথেষ্ট প্রমাণ হিসেবে ধরা হচ্ছে না।শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বই নন, কয়েকজন বুথ লেভেল অফিসারের নামও এই তালিকায় রয়েছে বলে জানা গেছে। কালীগঞ্জের জুড়ানপুর, দেবগ্রাম ও হাটগাছা এলাকার কয়েকজন বিএলও-র নাম বিচারাধীন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। পানিঘাটা পঞ্চায়েতের প্রধান সেন্টু মুন্সিও জানিয়েছেন, নামের সামান্য ভুল সংশোধনের জন্য শুনানিতে ডাকা হয়েছিল তাঁকে। সমস্ত নথি জমা দেওয়ার পরও তাঁর নাম তালিকায় ঝুলে রয়েছে।এদিকে কালীগঞ্জ বিধানসভা এলাকাতেই প্রায় ১২ হাজার নাম বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি প্রায় ১৫ হাজার ভোটারের নাম বিচারাধীন বিভাগে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে মতুয়া অধ্যুষিত বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রেও বহু নাম বাদ পড়েছে। নাকাশিপাড়া, কৃষ্ণনগর উত্তর, শান্তিপুর, রানাঘাট ও কল্যাণী সহ একাধিক কেন্দ্রে হাজার হাজার ভোটারের নাম তালিকা থেকে মুছে গিয়েছে।কালীগঞ্জের বিডিও কাঞ্চন রায় জানিয়েছেন, যেসব ক্ষেত্রে নথি পুনরায় যাচাইয়ের প্রয়োজন ছিল, সেগুলিকেই বিচারাধীন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে তিনি জানান। তবে নির্বাচনের আগে এমন পরিস্থিতি রাজনৈতিক ও সাধারণ মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
Popular Categories


