Saturday, June 6, 2026
39.7 C
Kolkata

নাজিরাবাদে গুদামঘরে ভয়ংকর আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার আশঙ্কা অন্তত ২১ জনের

রাজ্যে ফের মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুমিছিল। রবিবার গভীর রাতে দক্ষিণ কলকাতার নাজিরাবাদ এলাকার সালম আনন্দপুর সংলগ্ন ওয়াও মোমোর কারখানায় ভয়াবহ আগুন লাগে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পাশের আরও একটি গুদামে। মুহূর্তের মধ্যে দু’টি বড় শেড সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৬ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে দমকল সূত্রে জানা গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।

দুর্ঘটনার পর থেকেই ঘটনাস্থলে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একের পর এক দেহ উদ্ধার করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে শুধু হাড়গোড়ের অংশ পাওয়া গেছে, ফলে মৃতদের সনাক্তকরণে সমস্যা হচ্ছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য পরিবারের অনুমতি নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উদ্ধার হওয়া দেহগুলি প্রথমে সুভাষগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে ময়নাতদন্তের জন্য আলিপুরের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আগুন নেভাতে ঘটনাস্থলে দমকলের মোট ১২টি ইঞ্জিন পাঠানো হয়। রাতভর উদ্ধারকাজ চালিয়ে যান দমকল কর্মীরা। সোমবার রাত পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ে আরও দেহ উদ্ধার হয়। দুর্ঘটনার পর থেকে ওই এলাকার অধিকাংশ কারখানা ও গুদাম বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পূর্ব কলকাতা জলাভূমি এলাকায় নিয়ম ভেঙে একের পর এক গুদাম ও কারখানা গড়ে উঠেছে। জলাজমি ভরাট করেই এই সব নির্মাণ হয়েছে বলে দাবি। তাদের মতে, প্রশাসনের নজরদারির অভাবেই এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

রুবি হাসপাতাল পেরিয়ে আরবানা আবাসন ছাড়ালেই শুরু খেয়াদহ–২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা। বাইরে থেকে আধুনিক আবাসন চোখে পড়লেও ভেতরে ঢুকলেই একেবারে আলাদা ছবি। এই এলাকাটির নাম নাজিরাবাদ। পূর্ব কলকাতা জলাভূমির অন্তর্গত এই অঞ্চলে বছরের পর বছর জলাজমি ভরাট করে রাস্তার ধারে গড়ে উঠেছে একের পর এক বড় গুদাম ও ওয়্যারহাউস, যেগুলো স্থানীয়দের কাছে ‘শেড’ নামে পরিচিত।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এক সময় এই এলাকায় ভেড়ি ও খোলা জমি ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে জলাশয় ভরাট করে অবৈধভাবে নির্মাণ শুরু হয়। সরকারের বদলের পর এই কাজ আরও বেড়েছে বলে তাদের দাবি। এখন নাজিরাবাদে প্রায় কোনও খালি জমি নেই। কোটি কোটি টাকার জমির লেনদেন চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকার মানুষজন বলছেন, জমির চরিত্র বদলে দেওয়া হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এই ঘটনায় মৃত শ্রমিকদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী ও মৃতদের পরিজনেরা। তাদের প্রশ্ন, অনুমতি ছাড়া কীভাবে এত বড় কারখানা চলছিল এবং কেন আগুন লাগার মতো ঝুঁকি আগেই আটকানো গেল না কেনো। এই অগ্নিকাণ্ড রাজ্যে শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল।

Hot this week

আরজিকর মামলায় সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন নির্যাতিতার বাবা, আদালতে বিস্ফোরক অভিযোগ!

আরজিকর হাসপাতালের অভয়া কাণ্ডে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।...

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র যাদবের পদত্যাগের দাবিতে আজ যন্তরমন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির প্রথম বিক্ষোভ কর্মসূচি!

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র যাদবের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার দিল্লির যন্তরমন্তরে প্রথম...

তপ্ত দক্ষিণবঙ্গে এবার স্বস্তি, আজ বিকেলেই কালবৈশাখীর দাপট!

অবশেষে তপ্ত বাংলায় স্বস্তির নিঃশ্বাস। একদিকে ভারতের মূল ভূখণ্ড...

খাবার ও অক্সিজেন ছাড়াই এভারেস্টে সাত দিন, জীবিত উদ্ধার হলেন দাওয়া শেরপা!

বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টে এক অবিশ্বাস্য ঘটনার সাক্ষী...

Topics

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র যাদবের পদত্যাগের দাবিতে আজ যন্তরমন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির প্রথম বিক্ষোভ কর্মসূচি!

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র যাদবের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার দিল্লির যন্তরমন্তরে প্রথম...

তপ্ত দক্ষিণবঙ্গে এবার স্বস্তি, আজ বিকেলেই কালবৈশাখীর দাপট!

অবশেষে তপ্ত বাংলায় স্বস্তির নিঃশ্বাস। একদিকে ভারতের মূল ভূখণ্ড...

খাবার ও অক্সিজেন ছাড়াই এভারেস্টে সাত দিন, জীবিত উদ্ধার হলেন দাওয়া শেরপা!

বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টে এক অবিশ্বাস্য ঘটনার সাক্ষী...

Related Articles

Popular Categories