নিপা ভাইরাস ঘিরে রাজ্যে ফের উদ্বেগ বাড়ছে। বারাসাতে আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসার পর আরও দু’জন অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাদের বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, আক্রান্তদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কারণেই এই অসুস্থতা দেখা দিয়েছে। তবে কিছুটা স্বস্তির খবর হল, আক্রান্তদের কাছাকাছি থাকা পাঁচ জন স্বাস্থ্যকর্মীর পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। নদিয়ার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জানিয়েছেন, মোট ৪৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করার জন্য এইমস কল্যাণীতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে নিপায় আক্রান্ত দুই নার্সের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। একজন নার্স গভীর অচেতন অবস্থায় রয়েছেন, অন্যজন ভেন্টিলেশনে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের মতে, নদিয়ার কালীগঞ্জে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সময় তাদের সংক্রমণ হতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এবং পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণের জন্য আজ স্বাস্থ্য দফতরের একটি দল কালীগঞ্জে যাচ্ছে। আরও জানা গেছে, প্রথমে সংক্রমিত নার্সের সঙ্গে বারাসাত হাসপাতালে টানা দু’দিন রাতের ডিউটি করার সময় দ্বিতীয় নার্সের শরীরে ভাইরাস ছড়িয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ।
চিকিৎসকদের মতে, নিপা ভাইরাসের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল এর কোনও নির্দিষ্ট প্রতিষেধক এখনও নেই। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, কিছু ওষুধ পরীক্ষামূলক ভাবে ব্যবহার করা হলেও কার্যকর চিকিৎসা হিসেবে কিছু প্রমাণিত হয়নি। মূলত উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা এবং আইসিইউ পর্যবেক্ষণই ভরসা। এই ভাইরাস দ্রুত শরীরে প্রভাব ফেলে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই মস্তিষ্কে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। রোগীর খিঁচুনি, শ্বাসকষ্ট, অচেতন হয়ে পড়া কিংবা হৃদযন্ত্রের জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিপা ভাইরাস সাধারণত বাদুড়ের লালারস থেকে ছড়ালেও আক্রান্ত মানুষের শরীর থেকেও অন্যের মধ্যে সংক্রমণ হতে পারে। সাধারণ জ্বর, বমিভাব দিয়ে শুরু হলেও দ্রুত অবনতি হলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। কারণ এই রোগের মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি এবং সময়মতো চিকিৎসাই একমাত্র ভরসা।


