ওড়িশার ঝারসুগুড়া জেলায় এখনও ৪৪ জন বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিক পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তারা তাদের ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে নথি দেখিয়েছেন, কিন্তু পুলিশ সেগুলো গ্রহণ করেনি। পুলিশ জানিয়েছে, ৪০৩ জনকে তাদের কাজের জায়গায় ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তবে এই ৪৪ জনকে জেলার দুটি হোল্ডিং সেন্টারে আটকে রাখা হয়েছে। বাঙালি শ্রমিকদের এই হেনস্থার ঘটনা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
ঝারসুগুড়ায় এই ৪৪ জনের আটকের ঘটনা অন্যান্য বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশি আটকের ভয়ে এবং পরিবারের চিন্তায় কাতর হয়ে পড়ে, পাশের সম্বলপুর জেলার প্রায় ১৫০ জন শ্রমিক নিজে থেকে থানায় গিয়ে নিজেদের ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণের চেষ্টা করেছেন। তারা আধার কার্ড, জন্ম সার্টিফিকেট, ভোটার আইডি কার্ড এবং জমির কাগজপত্র জমা দিয়েছেন।
এই ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ বড় পরিসরে শ্রমিকদের আটকের প্রক্রিয়া কিছুটা কমিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তবে মাঝে মাঝে আটকের ঘটনা চলছেই। বিশেষ করে ময়ূরভঞ্জ জেলার করঞ্জিয়া মহকুমায় শ্রমিকদের এলোমেলোভাবে তুলে নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ঝারসুগুড়ায় যারা আগে আটক হয়েছিলেন, তাদের অনেকে এখনও এই অভিজ্ঞতায় ভীত। একজন মুক্ত শ্রমিক বলেছেন, “আমরা গরিব মানুষ। আমাদের পক্ষে হোয়াটসঅ্যাপে বা অন্যভাবে নথি পাঠানো প্রায় অসম্ভব। জন্ম সার্টিফিকেটের তো কথাই ওঠে না, আমাদের বেশিরভাগের কাছে সেটা নেই।” তিনি আরও জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের এক শ্রমিক তিন প্রজন্মের জমির কাগজ আর আধার কার্ড দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি বাংলাদেশের একজন মহিলাকে বিয়ে করেছেন এবং সেখান থেকে ফোন পান বলে পুলিশ তাকে ছাড়েনি।
মুক্তির সময় নিয়েও কিছু শ্রমিকের অভিযোগ রয়েছে। একজন বলেছেন, “আমাদের রাত দেড়টায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। মনে হয় পুলিশ চায়নি আমরা দিনের আলোয় মাথা উঁচু করে বেরোই।”
ঝারসুগুড়ায় আটক শ্রমিকদের মধ্যে হিন্দু এবং মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের মানুষই আছেন। তাদের বেশিরভাগই রাজমিস্ত্রি বা দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন। পশ্চিমবঙ্গ আর ঝাড়খণ্ডের বাংলাভাষী শ্রমিকরা নির্মাণ শিল্পে বড় ভূমিকা পালন করেন।


