২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রতিনিয়ত বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা হেনস্থা শিকার হয়ে চলেছে। ভারতীয় হওয়ার প্রামাণ্য নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে অসহায় বাংলা ভাষী মানুষদের। যা নিয়ে বর্তমানে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। ওড়িশার জাজপুর টাউনে আবারও বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, মেদিনীপুর ও মুর্শিদাবাদসহ মোট দশজন ফেরিওয়ালাকে স্থানীয় পুলিশ হঠাৎ করেই আটক করে নিয়ে যায়। শ্রমিকদের অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে কাজ শেষে খাবার খেতে বসার সময় পুলিশ বাড়িতে হানা দেয় এবং কোনও কারণ না দেখিয়েই সবাইকে থানায় তুলে নিয়ে যায়। শ্রমিকরা জানান, তাঁরা প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর ধরে ওড়িশায় নির্মাণ শ্রমিক ও ফেরিওয়ালার কাজ করছেন। জাজপুর টাউনের যে বাড়িতে তাঁরা ভাড়া থাকতেন, সেখানেই কয়েক দিন আগে পুলিশ এসে তাঁদের পরিচয়পত্র দেখেছিল। প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র দেখানোর পরেও অভিযোগ, বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণেই তাঁদের বাংলাদেশি তকমা দিয়ে হেনস্থা করা হয়। আটক অবস্থায় তাঁদের শারীরিক ও মানসিক চাপের মুখে পড়তে হয় বলেও অভিযোগ করেছেন শ্রমিকেরা। শুধু তাই নয় খাবারের নামে শুধু বিস্কুট দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তাঁরা।
এই ঘটনায় শ্রমিকদের পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। আটক শ্রমিকরা একটি ভিডিও বার্তায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, কোনও দোষ না থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র ভাষা ও পরিচয়ের ভিত্তিতে অপমান করা হয়েছে। ঘটনা সামনে আসতেই পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্য মঞ্চ আটক শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়েছে। সংগঠনের দাবি, অন্য রাজ্যে বাঙালি শ্রমিকদের অপমান ও হয়রানি এখন রোজকার ঘটনা, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শ্রমিকদের মুক্তির জন্য ইতিমধ্যেই আইনগত সহায়তা শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে সংগঠনের পক্ষ থেকে।


