
ওড়িশার রায়গড় জেলার কাশীপুর ব্লকে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন, ২০২৫, এক তরুণী ভিন্ন জাতের ছেলেকে বিয়ে করায় তার পরিবার ও আত্মীয়দের কঠিন শাস্তির মুখে পড়তে হয়। প্রায় ৪০ জনের মাথা মুণ্ডন করা হয়েছে এবং একটি শুদ্ধিকরণ অনুষ্ঠানে তাঁদের জোর করে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তফসিলি জনজাতির ওই তরুণী দীর্ঘদিন ধরে তফসিলি জাতির এক যুবকের সঙ্গে প্রেম করছিলেন। পরিবারের না চাইতেও তাঁরা বিয়ে করেন। এরপর গ্রামের মোড়লরা সালিশি সভা বসিয়ে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়।
সভার রায়ে মাথা মোড়ানোর পাশাপাশি পশুবলি দেওয়া হয় এবং গ্রামবাসীদের ভোজের আয়োজন করা হয়। পরিবারের লোকজন বলছে, তারা নিজে থেকেই এতে রাজি হয়েছিল। কিন্তু অনেকের ধারণা, ভয়ে তারা এমনটা বলতে বাধ্য হয়েছে। এই ঘটনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় উঠেছে। বিজেপি শাসিত রাজ্যে পুলিশ আর প্রশাসন কী করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। স্থানীয় বিডিও বিজয় সয় জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত চলছে।
ওড়িশায় অন্তরজাতি বিয়ের জন্য সরকার ২.৫ লক্ষ টাকা সাহায্য দেয়। তবুও এমন হেনস্থা বন্ধ করা যায়নি। একদিকে ভারত অর্থনৈতিক উন্নতির দিকে এগোচ্ছে, অন্যদিকে এমন ঘটনা আমাদের সামাজিক পশ্চাদপদতার ছবি তুলে ধরছে। এটা কি আধুনিক ভারতের চেহারা?


