ইসরাইলের কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর গুরুতর নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নতুন করে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া দুটি সাক্ষাৎকারে ফিলিস্তিনি বন্দিরা তাঁদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, কারাগারে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি লাঞ্ছনামূলক আচরণও করা হয়েছে। গত বছর একটি ইসরাইলি সামরিক কারাগারের সিসিটিভি ফুটেজ ফাঁস হওয়ার পর বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে আলোড়ন তোলে। ওই ঘটনায় ইসরাইলের সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা শুরু হয় এবং কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন।
৪৬ বছর বয়সী সামি আল-সাইয়ি ইসরায়েলের কারাগারে দিনের পরদিন নিপীড়িত হয়েছেন। তিনি অধিকৃত পশ্চিম তীরের তুলকারেম শহরের বাসিন্দা এবং আগে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তাঁকে ইসরাইলি সেনারা গ্রেপ্তার করে। কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই তাঁকে দীর্ঘ সময় বন্দি রাখা হয়। ইসরাইলের প্রশাসনিক আটক আইনের আওতায় তাঁকে ১৬ মাস কারাগারে থাকতে হয়। চলতি বছরের গ্রীষ্মে তিনি মুক্তি পান। মুক্তির পর সামি জানান, উত্তর ইসরাইলের মেগিন্দো কারাগারে থাকার সময় তাঁর ওপর কঠোর নির্যাতন চালানো হয়। তিনি বলেন, ওই অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর সময় ছিল। সামাজিক লজ্জা ও ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তিনি সত্য প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেন, যাতে বিশ্ববাসী বাস্তব চিত্র জানতে পারে। শুধু তাই নয়, সামি আরও অভিযোগ করে, ইসরায়েল কারাগারের রক্ষীরা বিবস্ত্র করে লাঠি বা ব্যাট দিয়ে যৌন নির্যাতন চালাতো। ইসরায়েলের কারাগারে আরেক ভুক্তভোগী পশ্চিম তীরের বাসিন্দা আহমেদ (ছদ্মনাম)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তাঁর এক বছরের কারাদণ্ড হয়। মুক্তির পর তিনি জানান, কারাগারে থাকার শেষ দিকে তাঁর সঙ্গে চরম অপমানজনক আচরণ করা হয়, যার ফল স্বরূপ তিনি মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েন।
এ বিষয়ে বিবিসি ইসরাইল প্রিজন সার্ভিসের কাছে জানতে চাইলে তারা জানায়, আইন অনুযায়ী বন্দিদের দেখাশোনা করা হয় এবং এসব অভিযোগ সম্পর্কে তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে অভিযোগগুলোর তদন্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তারা কোনো স্পষ্ট উত্তর দেয়নি। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে এবং কারাগারে বন্দিদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।


