সরকারি আবাস প্রকল্পে বাড়ি না-পাওয়া নিয়ে শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক টানাপোড়েন। সেই ঘটনাকেই ঘিরে শনিবার সকালে পাণ্ডবেশ্বরের হুচুকডাঙা গ্রামে মিলল ৪৫ বছরের সুন্দরা সূত্রধরের ঝুলন্ত দেহ। ঘটনায় শোকের ছায়া নেমেছে এলাকায়। একই সঙ্গে পরস্পরের বিরুদ্ধে নোংরা রাজনীতির অভিযোগ তুলেছে বিজেপি ও তৃণমূল।
কয়েক দিন আগে বিজেপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়ান। সেখানে দাবি করা হয়, সুন্দরা সূত্রধর সরকারি প্রকল্পে বাড়ি পাননি এবং মাটির ঘরেই থাকেন। ওই ভিডিওতে তাঁকে ভাঙা ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলতে দেখা যায়। বিজেপির দাবি ছিল, বাংলা আবাস যোজনায় তিনি বঞ্চিত।
এর পরেই তৃণমূলের পক্ষ থেকে পালটা ভিডিও প্রকাশ করা হয়। সেখানে দেখানো হয়, মহিলার পরিবারের একটি পাকা বাড়ি রয়েছে এবং যে ভাঙা ঘরটি দেখানো হয়েছে, সেটি আসলে গোয়ালঘর। ভিডিওতে সুন্দরা সূত্রধরকে বলতে শোনা যায়, বিজেপির প্ররোচনায় তিনি আগের কথা বলেছিলেন।
পরিবারের দাবি, এই টানাপোড়েনের জেরেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন সুন্দরা। শুক্রবার এক আত্মীয়কে ফোন করে তিনি দুশ্চিন্তার কথা জানান। শনিবার সকালে বাড়ির পাশের সেই গোয়ালঘর থেকেই তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুন্দরা সূত্রধরের স্বামী পরিযায়ী শ্রমিক। পাকা বাড়িটি তাঁর শ্বশুরের নামে। পরিবারের বক্তব্য, বিজেপির তরফে বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। সেই আশাতেই তিনি ভিডিওতে কথা বলেছিলেন। পরে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চর্চা শুরু হওয়ায় তিনি চাপে পড়ে যান।
পুলিশ জানিয়েছে, অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। শনিবার রাত পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা রয়েছে। দুই রাজনৈতিক দলই একে অপরের বিরুদ্ধে মানসিক চাপ সৃষ্টি ও অপপ্রচারের অভিযোগ তুলেছে। তবে গ্রামের মানুষ বলছেন, “রাজনীতির লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত বলি হল এক সাধারণ গৃহবধূ।”


