তোলাবাজি বা কোনও ব্যক্তির নাম করে বেআইনিভাবে টাকা আদায়ের অভিযোগ নিয়ে এবার কড়া বার্তা দিলেন পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ। তাঁর নাম ব্যবহার করে কেউ টাকা চাইলে ভয় না পেয়ে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। রবিবার পানিহাটির একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্থানীয় মানুষ ও কর্মীদের উদ্দেশে এই বার্তা দেন বিধায়ক।
রত্না দেবনাথ স্পষ্ট জানান, তাঁর পরিচয় দিয়ে কোনও ব্যক্তি টাকা চাইতে এলে বিষয়টি সহজভাবে নেওয়া উচিত নয়। বরং ওই ব্যক্তির ছবি মোবাইলে তুলে রাখার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি টাকা চাইতে আসা ব্যক্তিকে বিধায়কের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি বা সই নিয়ে আসতে বলার কথাও জানান। তাঁর বক্তব্য, শুধু মুখের কথায় কাউকে বিশ্বাস করার প্রয়োজন নেই।
বিধায়ক বলেন, কেউ যদি দাবি করেন যে তাঁকে বিধায়কের পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছে, তাহলে তাঁর কাছে বিধায়কের সই থাকা অনুমতিপত্র দেখতে চাওয়া উচিত। প্রয়োজনে বিধায়কের প্যাডে লিখিত নির্দেশও চাইতে হবে। এতে সাধারণ মানুষ প্রতারণা বা ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের ঘটনা থেকে নিজেদের কিছুটা সুরক্ষিত রাখতে পারবেন বলে মনে করছেন তিনি।
অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই রত্না দেবনাথ আরও বলেন, এলাকায় কোনও ধরনের ‘থ্রেট কালচার’ বা ভয় দেখানোর পরিবেশ তিনি চান না। তাঁর কথায়, সাধারণ মানুষ যাতে কোনও চাপের কাছে নতি স্বীকার না করেন, সেদিকে নজর দেওয়া দরকার। কেউ অন্যায়ভাবে টাকা দাবি করলে সাহস করে তার প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান তিনি।
এদিনের বক্তব্যে প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ এবং তাঁর ছেলের প্রসঙ্গও তোলেন রত্না দেবনাথ। তাঁদের দু’জনের জেলে থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার বা ভয় দেখানোর রাজনীতি কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর দাবি, এলাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া উচিত নয় যেখানে সাধারণ মানুষ কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর চাপে পড়ে যান।
নির্মল ঘোষের সাম্প্রতিক মন্তব্যেরও জবাব দেন পানিহাটির বিধায়ক। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে নিয়ে প্রাক্তন বিধায়ক যে মন্তব্য করেছেন, তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। রত্না দেবনাথের দাবি, তাঁকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে আসলে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তোলাবাজি নিয়ে শাসকদলের তরফে বারবার কড়া অবস্থানের কথা বলা হয়েছে। সেই আবহেই পানিহাটির বিধায়কের এই বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তাঁর বার্তা, কারও পরিচয় বা প্রভাবের ভয় না পেয়ে অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহ করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে প্রশাসনের দ্বারস্থ হতে হবে।


