কিরঘিজস্তানের বিশকেকে চলছে ২৬তম সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন বা এসসিও সম্মেলন। সম্মেলনের ফাঁকেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি, শান্তি ও নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে বলে জানা গিয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মোদির এই সাক্ষাৎ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম পেজেশকিয়ানের সঙ্গে সরাসরি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিমের খবর অনুযায়ী, দুই নেতা ভারত ও ইরানের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি দুই দেশের স্বার্থ জড়িত এমন বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়েও কথা হয়েছে।
বৈঠকে ইরানের বিদেশমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাকচি-সহ সে দেশের কয়েকজন শীর্ষ আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা অস্থিরতার পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক বিষয় নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই বৈঠকের সময়টিও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। আমেরিকা ও ইরানের সংঘাতের কারণে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি অস্থির হয়ে রয়েছে। তার উপর হরমুজ প্রণালীতে চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং ইরানের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও। এর প্রভাব ভারত-ইরান অর্থনৈতিক সম্পর্কের উপরও পড়েছে।
ভারত ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদারদের তালিকায় ভারত রয়েছে। ফলে বর্তমান সংকটের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখা নয়াদিল্লির কাছে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আমেরিকার সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা যখন নতুন মাত্রা পেয়েছে, তখন মোদির এই বৈঠক কূটনৈতিক দিক থেকে নজর কেড়েছে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গেও পৃথক আলোচনা করেন মোদি। দুই নেতার কথাতেও মধ্যপ্রাচ্যের অশান্তি, হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে তার প্রভাব গুরুত্ব পেয়েছে বলে সূত্রের খবর।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ইরান ও রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের এই ধারাবাহিক যোগাযোগ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নয়াদিল্লির স্বাধীন অবস্থানকেই তুলে ধরছে। আমেরিকা, রাশিয়া, চিন-সহ বিভিন্ন শক্তির মধ্যে ভারসাম্য রেখে নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করাই ভারতের মূল লক্ষ্য। তবে ভারত-ইরান-রাশিয়া মিলে আনুষ্ঠানিক কোনও নতুন জোট তৈরি হচ্ছে কি না, তা এখনই বলা যায় না। বরং বর্তমান পরিস্থিতিতে তিন দেশের পারস্পরিক স্বার্থের জায়গাগুলিতে সহযোগিতা বাড়ানোর দিকেই নজর রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।


