১ লা ফেব্রুয়ারী দেশের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু-র হাত থেকে দই খেয়ে পেশ করলেন ২৬ সালের বাজেট। কথিত আছে, যেকোনো কাজে দই কিংবা মিষ্টি খেয়ে গেলে কাজটি শুভ হয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, ২৬শে বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি সরকারের পেশ করা বাজেট কি আদেও শুভ হল দেশবাসীর কাছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি বাজেটের বিপক্ষেই সুর ছড়াচ্ছে। প্রথম সারির এক সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাজেট নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, মহাম্মদ সেলিম, অধীররঞ্জন চৌধুরী।
তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দোপাধ্যায়:
কেন্দ্রীয় বাজেট ঘোষণার পর বাংলাকে নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বাজেট বক্তৃতায় অনেক রাজ্যের নাম উল্লেখ করা হলেও বাংলার নাম শোনা যায়নি। এই বিষয়টি নিয়ে বিরোধীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তৃণমূল নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিজেপি চাইলে বাংলার জন্য বাড়তি আর্থিক সাহায্য দিতে পারত। যেমন বিহারের ক্ষেত্রে করা হয়েছিল। কিন্তু বাংলার জন্য তা করা হয়নি। তাঁর দাবি, বিজেপি মনে করে বাংলায় তাদের রাজনৈতিক লাভ নেই। সেই কারণেই রাজ্যকে বিশেষ কিছু দেওয়া হয়নি। তাঁর মতে, এই বাজেট শুধু নামের জন্য করা হয়েছে, বাস্তবে বাংলার জন্য তেমন কিছু নেই।
তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়:
এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, এবারের বাজেটে বাংলার জন্য তেমন কিছু রাখা হয়নি। ‘পূর্বোদয়’ নামে সামান্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যটি আবারও অবহেলিত। বাজেটে প্রান্তিক ও গরিব শ্রেণির মানুষদের প্রয়োজন উপেক্ষা করা হয়েছে। এই বাজেট সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন। এতে অসন্তোষ বাড়ছে বলে জানান তিনি।
সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহাম্মদ সেলিম:
এবারের কেন্দ্রীয় বাজেট নিয়ে সমালোচনা তীব্র হয়েছে। অভিযোগ, বাজেটে নতুন কোনও ঘোষণা নেই। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ হয়নি। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনকে ব্যর্থ বলা হয়েছে। কর্পোরেট সংস্থাকে সুবিধা দেওয়া হলেও কৃষক, শ্রমিক ও জ্বালানির ভর্তুকি কমানোয় প্রান্তিক মানুষের সমস্যা বাড়বে বলে আশঙ্কা।
প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরী:
সরকারের নতুন বাজেট নিয়ে বিরোধীরা তীব্র প্রশ্ন তুলেছে। তাদের অভিযোগ, এই বাজেটে সাধারণ মানুষের রুটি-রুজির কোনও স্পষ্ট ব্যবস্থা নেই। বাংলায় ভোট আছে বলেই কিছু ঘোষণা করা হয়েছে, কিন্তু বেকার যুবকদের জন্য চাকরির কোনও দিশা দেখানো হয়নি। বেকার সমস্যা সমাধানে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ বাজেটে নেই বলে দাবি। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। গরিব মানুষের জন্য সামাজিক প্রকল্পের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ। দেশের ৪৬ শতাংশ কৃষক হলেও তাঁদের জন্য বাজেটে বিশেষ কিছু নেই। ডলারের দাম বেড়ে ৯০ টাকা হওয়ায় অর্থনীতির অবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।


