বাংলাদেশের কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর কবে দেশে ফিরতে পারবেন ,এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে বীরভূমের মুরারইয়ের দুই পরিবারের মনে। মঙ্গলবার ভিডিও কলে সোনালি খাতুন ও সুইটি খাতুন পরিবারের সঙ্গে কথা বললে আবেগে ভরে ওঠে দুই বাংলার মানুষ। সোনালি বাংলাদেশের আশ্রয়স্থল থেকে ফোনে মায়ের খোঁজ নেন, বাবার অসুস্থতার কথা শোনেন। পাঁচ বছরের মেয়ে আরফিনকে দেখে বারবার চোখ ভিজে ওঠে তার। আরফিনও মা-কে দেখেই আনন্দে হাত নেড়ে কথা বলতে থাকে। সোনালির ভাই সাবিরও বোনের সঙ্গে কথা বলে মন হালকা করেন। ২০ আগস্ট থেকে তাদের অনুপ্রবেশকারী অভিযোগে আটক রাখা হয়েছিল। সেই সময় তাদের সঙ্গে ছিল দুই পরিবারে মোট তিনটি ছোট সন্তান।
আদালত থেকে বের হওয়ার পর স্থানীয় মানুষ ফারুক আলির বাড়িতে আশ্রয় পেয়েছেন তারা।বাংলাদেশে থাকা অবস্থায় তার সহায়তায়ই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন সোনালি ও সুইটি। প্রতি দশ দিনে একবার করে পুলিশকে তাদের বিষয়ে রিপোর্ট দিতে হবে, এমন শর্তও রাখা হয়েছে আদালতের পক্ষ থেকে। বর্তমানে তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জের নয়াগোলা এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে আছেন। ৩ ডিসেম্বর সোনালির চিকিৎসা পরীক্ষা করার কথা। অন্যদিকে, সুইটি খাতুন ফোনে যুক্ত হতেই তার ভাই আমির খান ফোন ধরিয়ে দেন মায়ের সঙ্গে কথা বলানোর জন্য। দীর্ঘদিন ধরে মেয়ের শরীর ও গর্ভের সন্তান নিয়ে উদ্বিগ্ন লাজিনা বিবি মেয়ে সুইটির কণ্ঠ শুনে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন। বাড়িতে থাকা দুই ছোট নাতি কুরবান ও ইমামও নানিকে দেখার জন্য অস্থির হয়ে ছিল। ভিডিও কলে তাদের মুখ দেখেও কান্না চাপতে পারেননি সুইটি।
এই মামলা এখন সুপ্রিম কোর্টে চলছে বলে জানা গিয়েছে। আগের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার আদালতে নালিশ করেছিল। শুনানিতে বিচারপতিরা বলেন, কাউকে দেশছাড়া করার আগে নিশ্চিত হতে হবে যে তিনি ভারতীয় নন। আদালত বিভিন্ন নথি দেখে মন্তব্য করে সোনালির পরিবার বহুদিন ধরেই এই দেশে বসবাস করছে।
সবশেষে ৩ ডিসেম্বর কেন্দ্র জানায়, সোনালি ও তার আট বছরের ছেলেকে দেশে ফেরানো হবে। তবে পরিবারের বাকি সদস্যদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। সোমবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালত পাঁচ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে তাদের জামিন মঞ্জুর করে। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা সোনালির শারীরিক অবস্থার কথা আদালতে জানানো হলে বিচারক দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন বলে জানিয়েছেন সেখানে উপস্থিত ভারতীয় সমাজসেবী মুফাজিল সেখ। আদালত কয়েকটি শর্তসাপেক্ষে তাদের মুক্তি দিয়েছে।


