উত্তরপ্রদেশের কাসগঞ্জ জেলার নাগদা ধাক গ্রামে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় পাঁচ মাসের গর্ভবতী ব্রজবালা নামে এক মহিলা তার স্বামীর হাতে নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছেন। মাত্র পঁচিশ বছর বয়সে এই তরুণীকে চিরতরে হারিয়েছে তার পরিবার। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার সন্ধ্যায় রান্নায় লবণ একটু বেশি হয়ে যাওয়ার জন্য স্বামী রামুর সঙ্গে ব্রজবালার তর্ক শুরু হয়। এই ছোট্ট বিষয়টি নিয়ে কথা কাটাকাটি বাড়তে থাকে, আর একসময় রাগের মাথায় রামু তার স্ত্রীকে মারতে শুরু করে।
মারধরের একপর্যায়ে ব্রজবালা বাড়ির ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান। তার শরীরে গুরুতর চোট লাগে। পরিবারের লোকজন তড়িঘড়ি তাকে কাছের জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু তার অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে চিকিৎসকরা তাকে আলিগড় মেডিকেল কলেজে পাঠিয়ে দেন। সেখানে সারারাত চিকিৎসা চললেও শেষরক্ষা হয়নি। বৃহস্পতিবার সকালে ব্রজবালা শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
ব্রজবালার ভাই পুলিশকে জানিয়েছেন, এই ঘটনার পিছনে শুধু খাবারের লবণই নয়, আরও গভীর কারণ ছিল। তার দাবি, রামুর তার নিজের ননদের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক ছিল। ব্রজবালা এটা মানতে পারতেন না, আর এ নিয়ে দুজনের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া লেগে থাকত। এইবারের তর্কও সেই পুরনো ক্ষতকে নতুন করে উসকে দেয়।
ঘটনার পর রামু গ্রাম ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু গ্রামের মানুষের চোখ এড়াতে পারেনি। তারা তাকে গ্রামের বাইরে একটি বাড়ি থেকে ধরে ফেলে এবং পুলিশের হাতে তুলে দেয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজেশ ভারতী জানিয়েছেন, রামুর বিরুদ্ধে হত্যার মামলা দায়ের করা হয়েছে। ব্রজবালার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে, আর পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
এই ঘটনায় গোটা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একটা সামান্য ঝগড়া কীভাবে এমন ভয়ঙ্কর পরিণতি ডেকে আনতে পারে, তা ভেবে স্থানীয়রা হতবাক। অনেকেই বলছেন, গার্হস্থ্য হিংসার এমন ঘটনা ঠেকাতে আরও কঠোর পদক্ষেপ দরকার। ব্রজবালার পরিবার এখন শুধু ন্যায়বিচারের আশায় দিন গুনছে।


