Saturday, September 5, 2026
30 C
Kolkata

মহারাষ্ট্রে হিন্দি বাধ্যতামূলক করার চেষ্টার বিরুদ্ধে বিজেপিকে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন উদ্ধব ঠাকরে

প্রায় দুই দশকের বিচ্ছেদের পর খুড়তুতো ভাই রাজ ঠাকরের সঙ্গে একটি জনসমাবেশে মিলিত হয়ে শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে মহারাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এই সমাবেশে তিনি সরকারের স্কুলে হিন্দি ভাষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি সরকারের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন যে, তামিলনাড়ু বা পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলিতে এই ধরনের পদক্ষেপ কেন নেওয়া হয় না। উদ্ধব ঠাকরে স্পষ্টভাবে সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, “আমরা কোনো ভাষার বিরুদ্ধে নই, তবে জোর করে কিছু চাপিয়ে দিলে তার পরিণতি ভোগ করতে প্রস্তুত থাকতে হবে।”

এই সমাবেশে হাজার হাজার সমর্থক ও কর্মী উপস্থিত ছিলেন। শিল্পী, লেখক এবং সমাজকর্মীরাও এতে অংশ নিয়েছিলেন, যারা হিন্দি ভাষা জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সমাবেশে উপস্থিত জনতার উচ্ছ্বাস এবং তাদের সোচ্চার অবস্থান থেকে বোঝা গেছে যে, এই ইস্যু শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং মহারাষ্ট্রের স্থানীয় সংস্কৃতি ও পরিচয়ের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই প্রসঙ্গে বলেছেন যে, হিন্দি কোনো ভাষার জন্য বিপদ নয় এবং এটি অন্য ভাষার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেই। কিন্তু মহারাষ্ট্রে শিবসেনা কর্মীরা এই বক্তব্য মানতে নারাজ। তারা সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে এসেছেন। এমনকি, আইন সংশোধন না করা হলে বড় আকারের প্রতিবাদের ঘোষণাও তারা দিয়েছিল। জনতার প্রবল চাপ এবং বিরোধিতার মুখে পড়ে অবশেষে সরকার ১৭ জুন আইন পরিবর্তন করে হিন্দি ভাষাকে ঐচ্ছিক করে দেয়।

এই ঘটনা মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য মোড় হিসেবে দেখা যাচ্ছে। উদ্ধব এবং রাজ ঠাকরের এই পুনর্মিলন শুধু একটি পারিবারিক সম্মিলন নয়, বরং স্থানীয় ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা। উদ্ধব ঠাকরে তাঁর বক্তব্যে বলেছেন, “আমরা সব ভাষাকে সম্মান করি, কিন্তু মহারাষ্ট্রে মারাঠি ভাষার মর্যাদা ও গুরুত্বকে অগ্রাহ্য করা যাবে না।” তাঁর এই কথায় স্পষ্ট হয়েছে যে, তিনি এবং তাঁর দল ভাষার বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলেও, জোরপূর্বক কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন না।

সরকারের দাবি ছিল, হিন্দি বাধ্যতামূলক করার এই সিদ্ধান্ত জাতীয় শিক্ষা নীতির অংশ। কিন্তু মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যে, যেখানে মারাঠি ভাষা ও সংস্কৃতির গভীর শিকড় রয়েছে, সেখানে এমন পদক্ষেপ সহজে গ্রহণযোগ্য হয়নি। জনগণের ক্ষোভ এবং প্রতিবাদের মুখে সরকারকে শেষ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসতে হয়েছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, মহারাষ্ট্রের মানুষ তাদের ভাষা ও ঐতিহ্য রক্ষায় সদা সচেতন এবং প্রয়োজনে রাস্তায় নামতে প্রস্তুত।

এই সমাবেশ শুধু মহারাষ্ট্রের জন্যই নয়, ভারতের অন্যান্য রাজ্যের জন্যও একটি বার্তা বহন করে। উদ্ধব ঠাকরে তামিলনাড়ু এবং পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ টেনে এনেছেন, যেখানে স্থানীয় ভাষার প্রতি একই রকম গভীর মমত্ববোধ ও গর্ব রয়েছে। ভারতের এই বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিতে ভাষা একটি সংবেদনশীল বিষয়, এবং এই ঘটনা সেই কথাই আরও একবার সামনে এনেছে।

Hot this week

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

ভূমধ্যসাগরে মাইক্রোঅ্যালগির দাপট! ইজরায়েলের অধিকাংশ ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট বন্ধ, জলসংকটের আশঙ্কা

ভূমধ্যসাগরে হঠাৎ করে বেড়ে ওঠা মাইক্রোঅ্যালগির কারণে বড়সড় সমস্যায়...

গাঁজা সেবনের অভিযোগে ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটের সেই পাইলটকে এবার বরখাস্ত করল এয়ার ইন্ডিয়া!

ফুকেত থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে বিপদের মুখে পড়া এয়ার...

Topics

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

Related Articles

Popular Categories