দুর্গাপুজোর সময় থেকেই যে জল্পনা ঘুরছিল, আজ সেই কথাই যেন আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে—রাজন্যা হালদার ও প্রান্তিক চক্রবর্তী কি সত্যিই বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন? সূত্রের দাবি, বুধবার দুপুরেই সল্টলেকের বিজেপি দফতরে তাদের আনুষ্ঠানিক যোগদানের কথা শোনা যাচ্ছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতেই নাকি এই যোগদান হবে। রাজন্যা হালদার পরিচিত হন একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে তার বক্তব্যের জন্য। সেই বক্তব্য তাকে রাতারাতি রাজ্য রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে এনে দেয়। কিন্তু আর জি কর হাসপাতাল-সংক্রান্ত ঘটনায় দলের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করায় পরিস্থিতি বদলে যায়। শেষ পর্যন্ত তৃণমূল ছাত্র পরিষদের তরফে রাজন্যা ও প্রান্তিক দু’জনকেই বরখাস্ত করা হয়। এরপর থেকেই তারা দলের সঙ্গে আর সক্রিয় যোগাযোগ রাখেননি বলে জানা যায়।
এরপরই আবার নতুন বিতর্ক শুরু হয় পুজোয় তাদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে। সপ্তমীর রাতে সজল ঘোষের পুজোয় এবং মহাষ্টমীতে সল্টলেক বিজেপি আয়োজিত পুজোয় রাজন্যা ও প্রান্তিককে দেখা যায়। দুই জায়গাতেই তাদের সঙ্গে ছিলেন কয়েকজন বিজেপি নেতা। এই ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই জল্পনা আরও বেড়ে যায় ,তাহলে কি ভোটের আগেই দলবদল অনিবার্য?
যদিও তখন রাজন্যা সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, এটি কেবল পুজো-পরিক্রমা, এর সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক নেই। একইভাবে সজল ঘোষও জানিয়েছিলেন, রাজন্যা তার ছোট বোনের মতো এবং অনেকের মতো সেও পুজোয় এসেছে। তবুও বিরাম পাওয়া যায়নি গুঞ্জনের। কারণ দুই দিন ধরে পরপর বিজেপি-ঘনিষ্ঠ পুজোয় তাদের উপস্থিতি অনেকের মনে প্রশ্ন তুলেছে। এখন প্রশ্ন, রাজন্যা-প্রান্তিক আনুষ্ঠানিকভাবে কি গেরুয়া শিবিরে যোগ দিচ্ছেন? নাকি পুজোর সৌজন্য সফরই ছিল সব।


