বিশ্ববাজারে ভারতের অন্যতম সেরা ‘সাকসেস স্টোরি’ হিসেবে পরিচিত বেঙ্গালুরুর সোনা ও রত্ন ব্যবসায়ী সংস্থা ‘রাজেশ এক্সপোর্টস’-এর বিরুদ্ধে এবার দেশের ইতিহাসের বৃহত্তম আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠল। টানা পাঁচ বছর ধরে প্রায় ১৫.১৫ লক্ষ কোটি টাকার আয়ের ভুয়ো খতিয়ান দেখানোর অপরাধে এই সংস্থাকে শেয়ার বাজারে নিষিদ্ধ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা SEBI। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে। এই খবরের জেরে বৃহস্পতিবার বাজার খুলতেই সংস্থার শেয়ারে ৫ শতাংশ ধস নামে।
SEBIর প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ অর্থবর্ষের মধ্যে রাজেশ এক্সপোর্টস তাদের বিদেশের সহযোগী সংস্থাগুলির, বিশেষ করে সুইৎজারল্যান্ডের ‘ভ্যালক্যাম্বি’র মাধ্যমে ব্যবসা বিপুল বাড়িয়ে দেখিয়েছিল। মোট ঘোষিত আয়ের প্রায় ৯৭ থেকে ৯৯ শতাংশই এই বিদেশি উৎস থেকে দেখানো হয়েছিল, যার কোনো সঠিক নথিপত্র মেলেনি। এছাড়া আফ্রিকার একটি স্বর্ণখনিতে ১,০৩৫ কোটি টাকার ভুয়া বিনিয়োগ এবং অন্য একটি ব্রোকারেজ সংস্থার সঙ্গে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকার জাল কেনাবেচার তথ্যও সামনে এসেছে। এমনকি সংস্থার চেয়ারম্যান রাজেশ মেহতার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে বেআইনিভাবে টাকা সরানোর প্রমাণ মিলেছে, যা ডেরিভেটিভ ট্রেডিংয়ে ব্যবহার করা হয়েছিল।
এই চরম জালিয়াতির জেরে এখন সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে পড়েছেন দেশের লক্ষ লক্ষ সাধারণ মধ্যবিত্ত বিনিয়োগকারী। রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থা এলআইসি-র এই সংস্থায় প্রায় ১০.৮ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে, যার মূল্য প্রায় ৩৩৬ কোটি টাকা। অন্যদিকে রিটেল ইনভেস্টর বা খুচরো বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৪৩৬ কোটি টাকা আটকে রয়েছে। সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের প্রায়৭৭০ কোটি টাকা এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে। পাশাপাশি কানারা ব্যাঙ্কেরও এই সংস্থার কাছে প্রায় ৫০৯ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। সব মিলিয়ে এই কর্পোরেট জালিয়াতি ভারতীয় অর্থনীতিতে এক বড়সড় বিপর্যয় ডেকে এনেছে


