দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় সাম্প্রতিক একাধিক বড়সড় কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে এবার সরাসরি রণংদেহী মেজাজে অবতীর্ণ হলেন খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। নিট ও সিবিএসই-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় বড়সড় অনিয়মের অভিযোগে আগামী ৫ জুনের মধ্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছেন তিনি। এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে মন্ত্রী পদত্যাগ না করলে আগামী ৬ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে যুব সমাজের ডাকা এক বিশাল প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সশরীরে যোগ দেবেন বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন লাদাখের এই লড়াকু ব্যক্তিত্ব।
তরুণ প্রজন্মের সমাজমাধ্যমভিত্তিক আন্দোলনকারী দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি এই প্রতিবাদের ডাক দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে লাদাখের প্রত্যন্ত সরকারি স্কুলগুলির ভোলবদল করা ওয়াংচুক দেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান যে, কেন্দ্র সরকারের জাতীয় শিক্ষানীতির উদ্দেশ্য ভালো হলেও, তা খাতা-কলমেই আটকে রয়েছে। গ্রাউন্ড রিয়ালিটি বা বাস্তব রূপায়নের ক্ষেত্রে সরকারের পারফরম্যান্স অত্যন্ত হতাশাজনক। গ্রামের শিশু ও প্রাথমিক শিক্ষার ভবিষ্যৎ ঠিক না হলে উন্নত ভারতের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে বলে মনে করেন তিনি।
এই যুব আন্দোলন কোনও বিদেশি মদতপুষ্ট চক্রান্ত নয়, বরং দেশের খাঁটি দেশপ্রেমিক তরুণদের সতস্ফূর্ত প্রতিবাদ— এই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরেই ওয়াংচুক আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর এই যোগদানের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। ওয়াংচুক স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ নিয়ে এই ধরণের ছিনিমিনি খেলার দায় এড়ানো যায় না। একটি সুস্থ ও আত্মমর্যাদাশীল গণতান্ত্রিক দেশে এই ধরণের নজিরবিহীন ব্যর্থতার পর মন্ত্রীর নৈতিক দায় নিয়ে অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত। সোনম ওয়াংচুকের মতো একজন জাতীয় স্তরের ব্যক্তিত্ব এই ছাত্র আন্দোলনের পাশে দাঁড়ানোয় স্বাভাবিকভাবেই দিল্লির অলিন্দে চাপ আরও বাড়ল।


