অযোধ্যার রামমন্দিরকে ঘিরে দান সামগ্রী ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাম জন্মভূমি আন্দোলনের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকা সন্তোষ দুবে মঙ্গলবার অযোধ্যার রাম জন্মভূমি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, মন্দিরে প্রাপ্ত দান এবং মূল্যবান সামগ্রী সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুতর অনিয়ম হয়েছে। তিনি এই ঘটনার তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের দাবি জানিয়েছেন।সন্তোষ দুবের অভিযোগ অনুযায়ী, রামমন্দির আন্দোলনের সময় দেশ-বিদেশ থেকে বহু ভক্ত ও সমর্থক সোনা, রুপো, হিরে বসানো এবং অষ্টধাতুর তৈরি ইট দান করেছিলেন। তাঁর দাবি, প্রায় ১,২৫০টি মূল্যবান ইটের এখন আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এসব ইটের মধ্যে মরিশাস থেকে পাঠানো একটি বিশেষ ইট এবং মুম্বইয়ের এক ব্যবসায়ীর দেওয়া হিরে খচিত ইটও ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।অভিযোগপত্রে তিনি শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই, ট্রাস্ট সদস্য অনিল মিশ্র, মন্দির প্রশাসক গোপাল রাও এবং চম্পত রাইয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু যাদবের নাম উল্লেখ করেছেন। দুবের দাবি, এই ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা উচিত এবং প্রয়োজনে তাদের পলিগ্রাফ পরীক্ষাও করা উচিত।বর্তমানে চম্পত রাই অসুস্থ থাকায় এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি বলে তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে। অন্যদিকে অনিল মিশ্রও চিকিৎসার জন্য উত্তরপ্রদেশের বাইরে রয়েছেন। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।সন্তোষ দুবে বহু বছর ধরে রাম জন্মভূমি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। তিনি দাবি করেছেন, আন্দোলনের সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন এবং নব্বইয়ের দশকে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় কারাবাসও করেছিলেন। বর্তমানে তিনি ‘ধর্মসেনা’ নামে একটি হিন্দু সংগঠন পরিচালনা করছেন।দুবে বলেন, একসময় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা অশোক সিংঘল দেশজুড়ে ভক্তদের রামমন্দির নির্মাণের জন্য ইট দানের আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই সময় বহু মানুষ মূল্যবান ধাতু ও রত্নখচিত ইট দান করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, গত কয়েক বছরে এসব সামগ্রীর কোনো হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না।তিনি আরও দাবি করেন, মন্দির পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ব্যক্তির সম্পত্তির পরিমাণও তদন্ত করে দেখা উচিত। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ কর্মী বা চালক হিসেবে কাজ করা কিছু ব্যক্তি বর্তমানে বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।এদিকে মন্দিরের দান সংক্রান্ত কথিত অনিয়মের তদন্তে গঠিত চার সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার তদন্তকারীরা প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে দান সংগ্রহ, গণনা, প্যাকেটবন্দি করা এবং ব্যাংকে জমা দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নথি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাও পরীক্ষা করা হয়।পুলিশ সূত্রের খবর, গত এক বছরে দান ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত কর্মচারী ও অন্যান্য ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্তকারী দল ইতিমধ্যেই ট্রাস্টের কর্মী, অর্থ গণনার দায়িত্বে থাকা কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। অভিযোগে কতটা সত্যতা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
১,২৫০টি দানকৃত মূল্যবান হিরে বসানো ইটের হদিস নেই! রামমন্দির ট্রাস্টের বিরুদ্ধে উঠল গুরুতর অভিযোগ
Popular Categories


