পবিত্র রমযান মাস ও রোযার গুরুত্ব নিয়ে ইসলামি সূত্রে নানা বর্ণনা পাওয়া যায়। হাদিস শরিফে রোযার ফজিলত ও তাৎপর্য সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা এসেছে। বিশিষ্ট সাহাবি আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, কেউ যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একটি দিনও রোযা পালন করে, তবে আল্লাহ তাআলা তার থেকে জাহান্নামকে সত্তর বছরের পথ দূরে সরিয়ে দেন। এই বর্ণনাটি সহিহ হাদিস গ্রন্থগুলোতে উল্লেখ রয়েছে।
অন্য এক হাদিসে সাহল বিন সা’দ (রা.) জানান, জান্নাতে ‘রাইয়ান’ নামে একটি বিশেষ দরজা থাকবে। কেয়ামতের দিন রোযাদারদের সে দরজা দিয়ে ডাকা হবে। সবশেষ রোযাদার প্রবেশ করার পর দরজাটি বন্ধ করে দেওয়া হবে।
আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে জানা যায়, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমা থেকে আরেক জুমা এবং এক রমযান থেকে পরবর্তী রমযান— এসব আমল মাঝের ছোট গুনাহসমূহ মাফের কারণ হয়, যদি বড় গুনাহ থেকে বিরত থাকা যায়। আরও বর্ণনায় এসেছে, যে ব্যক্তি রমযানের রোযা যথাযথভাবে আদায় করে এবং খারাপ কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখে, তার অতীতের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। ইসলামি চিন্তাবিদরা বলেন, রোযা শুধু না খেয়ে থাকা নয়; এটি আত্মসংযম ও তাকওয়া অর্জনের শিক্ষা দেয়।
তবে রোযা ইচ্ছাকৃতভাবে ভেঙে ফেলার ব্যাপারে কঠোর সতর্কবার্তাও রয়েছে। হাদিসে বলা হয়েছে, বৈধ কারণ ছাড়া রমযানের একটি রোযা নষ্ট করলে সারা জীবন নফল রোযা রাখলেও তার পূর্ণ ক্ষতিপূরণ হয় না। ইসলামের মূল ভিত্তির অন্যতম অংশ হলো রমযানের রোযা। তাই ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য এই ইবাদত গুরুত্ব ও মর্যাদার সঙ্গে পালনের আহ্বান জানিয়েছেন আলেমরা।


