উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালিতে জমি সংক্রান্ত পুরনো বিরোধকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে থাকা অবস্থাতেই বিজেপি বিধায়ক রেখা পাত্র দুই পক্ষের ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েন। তাঁকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি এনবিটিবি।ঘটনাটি সন্দেশখালি ২ নম্বর ব্লকের সন্দেশখালি গ্রাম পঞ্চায়েতের বউঠাকুরান গ্রামের। স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, রেখা পাত্রের বাবার পরিবারের প্রায় ৯ বিঘা জমি নিয়ে শরিক কালিপদ নস্কর এবং তাঁর ছেলে সুভাষ নস্করের সঙ্গে বহু বছর ধরে বিরোধ রয়েছে। জমির মালিকানা এবং সরকারি নথিতে জমির রেকর্ড নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ চলছে।জানা গিয়েছে, ২০১৪ সালে দিলীপ পাত্র ওই জমির রেকর্ড নিজের নামে করানোর উদ্যোগ নিলে শরিকদের সঙ্গে সমস্যা তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে থানায় দু’পক্ষের তরফে অভিযোগ জমা পড়ে। পরে সেই বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সুভাষ নস্কর ওই জমিতে চাষ করতে পারবেন বলে তাঁর পরিবারের দাবি।অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ মেনে পুলিশি নিরাপত্তায় সুভাষ নস্কর জমিতে চাষের কাজ শুরু করতে গেলে পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছন হিঙ্গলগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক রেখা পাত্র এবং তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তা ধস্তাধস্তির পর্যায়ে পৌঁছে যায় বলে অভিযোগ।সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে কয়েকজনকে পরস্পরের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। ওই ফুটেজে রেখা পাত্রকেও গোলমালের মধ্যে থাকতে দেখা গিয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনের বিরুদ্ধে উত্তেজক ও অশালীন ভাষা ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। সন্দেশখালি আন্দোলনের সময় পরিচিত মুখ হয়ে ওঠা রেখা পাত্রের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বও চাপে পড়তে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তবে ভাইরাল ভিডিয়োটি কখন বা কী পরিস্থিতিতে ধারণ করা হয়েছিল, তা এখনও নিশ্চিত নয়। জমি নিয়ে চলা বিরোধে দুই পক্ষের বক্তব্যও সম্পূর্ণভাবে সামনে আসেনি। ফলে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কার ভূমিকা কতটা ছিল, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যায়নি।
Popular Categories


