চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর রাজ্যের নানা প্রান্তে অসন্তোষ বাড়ছে। অভিযোগ উঠেছে, বহু বৈধ ভোটারের নামের পাশে ‘বিচারাধীন’ চিহ্ন দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। জানা গিয়েছে, অন্তত ছয়জন মুসলিম বিধায়কের নামও একইভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই সামনে এসেছে অবসরপ্রাপ্ত বিচারক ও প্রাক্তন রাজ্য সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান হাজি ইন্তাজ আলি শাহের ঘটনা। প্রকাশিত তালিকায় তার নাম ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। শুধু তিনি নন, তাঁর স্ত্রীকেও একইভাবে রাখা হয়েছে। অথচ তাঁদের ছেলে ও পুত্রবধূর নাম তালিকায় স্বাভাবিকভাবেই রয়েছে।
ইন্তাজ আলি শাহ জানান, তিনি বহু বছর ধরে বেহালা পূর্ব বিধানসভার ভোটার। আগে ২৫৪ নম্বর অংশে তার নাম ছিল, বর্তমানে অংশ নম্বর ২৫৬-এ স্থানান্তরিত হয়েছে। ঢালিপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় তাঁর ভোটকেন্দ্র। ২০০২ সাল থেকে নিয়মিত ভোটার হিসেবে নাম রয়েছে বলে দাবি তাঁর। তা সত্ত্বেও কেন সন্দেহের তালিকায় রাখা হল, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, ১৯৮০ সাল থেকে দীর্ঘ সময় বিচার বিভাগের দায়িত্ব সামলেছেন। পরে সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবেও কাজ করেছেন। এত বছরের সরকারি দায়িত্ব পালনের পরও যদি তার নাগরিকত্ব বা ভোটার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তবে সাধারণ মানুষের অবস্থাটা কী হতে পারে—সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
অভিযোগ উঠেছে, মালদা ও মুর্শিদাবাদ-সহ কিছু জেলায় বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম একইভাবে বিচারাধীন রাখা হয়েছে। অনেক শিক্ষক, আইনজীবী ও অধ্যাপকের নামও নাকি এই তালিকায় রয়েছে। কোথাও কোথাও অর্ধেকের বেশি ভোটারকে ‘বিচারাধীন’ হিসেবে দেখানো হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ইন্তাজ আলি শাহ বলেন, এতে সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভোটাধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই দ্রুত এই বিভ্রান্তির অবসান ঘটিয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন বলে মত তাঁর। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তীব্র হচ্ছে।


