নামের বিভ্রাট ঘিরে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া। আর সেই মানসিক চাপেই আত্মহত্যা করেছেন এক প্রৌঢ়া—এমনই অভিযোগ উঠেছে হুগলির রিষড়ায়। শনিবার রাতে নিজের বাড়ি থেকে ৫৮ বছরের মিনতি সেনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের দাবি, এসআইআরে নাম বাদ পড়ায় দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি।
মৃতা রিষড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বারুজীবী এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে তাঁর ঘরে আলো জ্বলছিল না। বাড়িতে একাই ছিলেন মিনতি। ছেলে ভোলা সেন কাজে বাইরে ছিলেন। দীর্ঘ সময় আলো না জ্বলতে দেখে সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। তাঁরা ডাকাডাকি শুরু করেন। সেই সময় বাড়ি ফেরেন ভোলা। পরে সকলে মিলে ঘরে ঢুকে প্রৌঢ়াকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর দেওয়া হয় পুলিশে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রিষড়া থানার পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ মৃতার ছেলে ও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
মৃতার পুত্র ভোলা সেনের দাবি, আধার কার্ডে নাম ‘মিনু সেন’ থাকলেও অন্যান্য নথিতে ‘মিনতি সেন’ থাকায় এসআইআর তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ে যায়। সেই থেকেই গভীর দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন তাঁর মা। ভোলার কথায়, “ভোটার তালিকায় মায়ের নাম ছিল না। সব সময় বলতেন এখানে থাকতে দেবে না। আমি আশ্বস্ত করলেও চিন্তা কাটেনি।”
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মা ও ছেলে ছাড়া ওই বাড়িতে আর কেউ থাকতেন না। ছেলে কাজে বেরিয়ে গেলে সারাদিন একাই থাকতেন মিনতি। প্রতিবেশীদের দাবি, নাম বাদ পড়ার পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। উল্লেখ্য, ভোলা সেনের নামও ভোটার তালিকায় নেই বলে জানা গিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, সংশোধনের জন্য আবেদন করা হয়েছে।
রবিবার সকালে মৃতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান শ্রীরামপুরের তৃণমূল প্রার্থী তন্ময় ঘোষ। তিনি এই মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে দায়ী করেন। তাঁর অভিযোগ, মানুষের জীবন নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে শ্রীরামপুরের বিজেপি প্রার্থী ভাস্কর ভট্টাচার্য বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। যে কোনও মৃত্যুই দুঃখজনক হলেও বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে না দেখে তদন্তের মাধ্যমে সত্য সামনে আনা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


