২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আলিমুদ্দিনের একদা প্রতিশ্রুতিবান ছাত্রনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বহিষ্কার করেছিল সিপিএম। আর্থিক অসঙ্গতি ও নারীঘটিত একাধিক অভিযোগ ওঠার পর দল থেকে বাদ পড়েছিলেন তিনি। সেই সময় নাড়ির টান ছিন্ন হওয়ার যন্ত্রণার কথা বলা ঋতব্রত পরে যোগ দেন তৃণমূলে। রাজ্যসভার টিকিট পেয়ে ২০২৪ সালে এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছিলেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যেই তিনি লেনিনকে দেখতে পান। কিন্তু রাজনীতির চাকা ঘুরতেই প্রায় ১০ বছরের মাথায় সেই তৃণমূল কংগ্রেসও বহিষ্কার করল ঋতব্রতকে। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী খোদ বিধানসভায় জানান যে তৃণমূলের সই জাল কেলেঙ্কারির কথা স্পিকারকে জানিয়েছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা। এই খবর সামনে আসার কয়েক মিনিটের মধ্যেই দুজনকে দল থেকে বহিষ্কার করে তৃণমূল। এরপরই দুই নেতা সংবাদমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়ে দাবি করেন যে দলে কাজ করার মতো পরিবেশ আর নেই।
ঋতব্রতর এই রাজনৈতিক পরিণতি নিয়ে মুখ খুলেছেন বর্ষীয়ান বাম নেতা সুজন চক্রবর্তী। তিনি তীব্র কটাক্ষ করে বলেন যে তৃণমূল কংগ্রেসে বহিষ্কার শব্দটার কোনো অর্থই নেই। গরুর গাড়ির হেডলাইটের মতোই এই দলে বহিষ্কারের কোনো অস্তিত্ব নেই। এমনিতেই তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ২০ জনও বৈঠকে আসেন না, সবাই পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি মনে করিয়ে দেন যে সিপিএম কখনো নৈতিকতার প্রশ্নে আপস করে না।
অন্যদিকে এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য পুরনো দিনের কথা মনে করে বলেন যে ঋতব্রত যখন বাম আন্দোলন ছেড়ে তৃণমূলে গিয়েছিলেন, তখন তাঁরা ধাক্কা খেয়েছিলেন। কিন্তু আজ যখন তিনি বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করছেন, তখন বোঝা যাচ্ছে যে সেদিনই তাঁকে চিনে নেওয়া উচিত ছিল। সৃজনের স্পষ্ট বক্তব্য, যিনি একবার মতাদর্শের প্রশ্নে আপস করতে পারেন, তিনি বারবার তা করতে পারেন। আজকের ঋতব্রতকে দেখলে একটি জনপ্রিয় প্রবাদই মনে পড়ে যে, বিশ্বাসঘাতক চিরকালই বিশ্বাসঘাতক থাকে।


