পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা অস্থির পরিস্থিতির প্রভাব জ্বালানি বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন শহরে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ১ জুন থেকে এই বর্ধিত দাম কার্যকর হয়েছে। ফলে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের খরচ আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী দিল্লিতে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৪২ টাকা বেড়েছে। অন্যদিকে কলকাতায় একই সিলিন্ডারের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ৫৩ টাকা ৫০ পয়সা। বর্তমানে দিল্লিতে একটি ১৯ কেজির সিলিন্ডারের দাম দাঁড়িয়েছে ৩,১১৩ টাকা ৫০ পয়সা। কলকাতায় সেই দাম পৌঁছেছে ৩,২৫৫ টাকা ৫০ পয়সায়।
তবে সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবরও রয়েছে। বাড়িতে রান্নার কাজে ব্যবহৃত ১৪.২ কেজির গৃহস্থালি গ্যাস সিলিন্ডারের দামে কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি। আগের মতোই এর মূল্য ৯১৩ টাকা রয়েছে। একইভাবে পেট্রল ও ডিজেলের দামও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। যদিও ৫ কেজির ছোট এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য ১১ টাকা বাড়ানো হয়েছে। দিল্লিতে এখন এই সিলিন্ডার কিনতে খরচ হবে ৮২১ টাকা ৫০ পয়সা।
উল্লেখ্য, গত মাসেও বাণিজ্যিক গ্যাসের দামে বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছিল। সেই সময় সারা দেশে ১৯ কেজির সিলিন্ডারের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই দ্বিতীয়বার দাম বৃদ্ধির ঘটনা ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এদিকে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, দেশে জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে বর্তমানে কোনও সমস্যা নেই। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের প্রয়োজন মেটানোর মতো পর্যাপ্ত পরিমাণ পেট্রল, ডিজেল ও এলপিজি মজুত রয়েছে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাসসহ অন্যান্য জ্বালানিরও যথেষ্ট সংরক্ষণ করা হয়েছে।
সম্প্রতি এক বৈঠকে মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা জানান, তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলিকে অন্তত ৩০ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো এলপিজি মজুত রাখতে বলা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অপরিশোধিত তেলের সংরক্ষণ নিয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের সব শোধনাগার বর্তমানে পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করছে। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ এলপিজি উৎপাদন হচ্ছে এবং এখনও পর্যন্ত কোনও এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে কয়েকটি এলাকায় জ্বালানি বিক্রির ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে কৃষি ক্ষেত্রের চাহিদা বৃদ্ধি এবং পাইকারি বিক্রির কারণে এই প্রবণতা দেখা দিয়েছে বলে প্রশাসনের দাবি। সামগ্রিকভাবে জ্বালানি বিক্রিতে ৩০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি রেকর্ড হয়েছে।
অবৈধ মজুতদারি ও পাচার রুখতে নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। গত কয়েক দিনে হাজার হাজার অভিযান চালানো হয়েছে। এইসব অভিযানে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিপুল পরিমাণ পেট্রল ও ডিজেলও বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
সরকারের দাবি, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে এলপিজি বিতরণে যে বকেয়া ছিল, তা অনেকটাই কমে এসেছে। ফলে আগামী দিনে জ্বালানি সরবরাহ আরও স্বাভাবিক থাকবে বলেই আশা করা হচ্ছে।


