ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন এগোনোর সাথে সাথে, রাজ্য রাজনীতিও ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে চলেছে। এই আবহেই আরএসএস-এর শতবর্ষ উপলক্ষে ‘শতায়ু সংঘ’ নামে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রবিবার কলকাতায় আসেন সংঘ প্রধান মোহন ভাগবত। সায়েন্স সিটিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি হিন্দু সমাজের ঐক্যের উপর জোর দেন এবং নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।
মোহন ভাগবত বলেন, আরএসএস-এর মূল লক্ষ্য হিন্দু সমাজকে একত্রিত করা। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, আরএসএস কোনওভাবেই মুসলিম বিরোধী নয় এবং কোনও ধর্মের বিরুদ্ধেও তাদের অবস্থান নেই। তাঁর কথায়, আরএসএস-কে বিজেপির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়। সংঘের কাজ নিঃস্বার্থ, ভোট বা রাজনৈতিক ক্ষমতার জন্য নয়। তিনি বলেন, সংঘের কোনও শত্রু নেই এবং সমাজের উন্নতির জন্যই তাদের কাজ। এই অনুষ্ঠানে মোহন ভাগবত বাংলাদেশ পরিস্থিতি, অনুপ্রবেশ, ধর্ম এবং সরকারের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রভাব পশ্চিমবঙ্গেও পড়ছে, যা উদ্বেগের বিষয়। তাঁর বক্তব্যে নির্বাচনের আগে বিজেপির সুরের সঙ্গে কিছুটা পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়, যা রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি করেছে। মোহন ভাগবত তাঁর ভাষণে স্বামী বিবেকানন্দ, রাজা রামমোহন রায় এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নাম উল্লেখ করেন। বিশেষভাবে তিনি রামমোহন রায়ের সমাজ সংস্কারের কাজের কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, সেই সময় যে সমাজ সংস্কারের ধারা শুরু হয়েছিল, আরএসএস সেই পথেই এগোতে চায়। তিনি আরও বলেন, ভারতের প্রাচীন সনাতন সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ গ্রহণ করলেই রাষ্ট্র গঠন ও জাতীয় নিরাপত্তা আরও মজবুত হবে। এখন প্রশ্ন উঠছে কেন বিজেপির থেকে নিজেদের আলাদা করল আরএসএস? নিজেদেরকে ধর্ম নিরপেক্ষ প্রমাণ করার জন্য আজ কি বিজেপির সংঘ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে রাষ্ট্রীয় সেবক সংঘ?


