Wednesday, July 22, 2026
26.3 C
Kolkata

ভোট-পরবর্তী হিংসায় ‘শান্তির দূত’ RSS? তৃণমূলের প্রতি ‘নরমপন্থা’ অবলম্বন সংঘের!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সম্ভাব্য অশান্তি এড়াতে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে এক ভিন্ন চিত্র সামনে এসেছে—যেখানে আরএসএসের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। অভিযোগ-প্রত্যাশার বাইরে গিয়ে, কিছু ক্ষেত্রে তৃণমূলের প্রতিও সহানুভূতিশীল অবস্থান নিতে দেখা যাচ্ছে সঙ্ঘের কর্মীদের।সংগঠনের একাধিক সূত্র জানাচ্ছে, ভোটের ফল প্রকাশের পর যাতে কোনও ধরনের সংঘর্ষ, দখলদারি বা লুটপাট না ঘটে, সেদিকে নজর রাখছেন তাঁদের স্বয়ংসেবকেরা। বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ার খবর পেলেই তাঁরা দ্রুত সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন। কোথাও কোনও সমস্যা হলে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে দাবি।আরএসএসের এক শীর্ষস্থানীয় নেতা জানিয়েছেন, তাঁদের মূল লক্ষ্য এখন রাজ্যে শান্তি বজায় রাখা। তিনি বলেন, “নির্বাচনের পর অনেক সময়ই প্রতিহিংসার পরিবেশ তৈরি হয়। আমরা চাই না সেই পরিস্থিতি তৈরি হোক। আইন মেনে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকুক—এটাই আমাদের উদ্দেশ্য।” তিনি আরও দাবি করেন, কোনও দলের কর্মী আক্রান্ত হলে, রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে আইনি সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও তাঁরা প্রস্তুত।এই প্রেক্ষিতে একটি ঘটনার কথাও উঠে এসেছে। জানা গিয়েছে, সল্টলেক এলাকায় একটি ক্লাব দখল নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, সেখানে অন্য দলের পতাকা লাগানো হয়েছে। পরে সঙ্ঘের এক নেতা নিজে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন এবং ক্লাবটি আগের অবস্থায় ফেরানোর উদ্যোগ নেন। এই ঘটনার পর থেকেই তাঁদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে।শুধু কলকাতা নয়, জেলার দিকেও নজর রাখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার এক তৃণমূল নেতা সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সঙ্ঘের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলেও খবর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি কৌশলগত পরিবর্তন, নাকি সাময়িক উদ্যোগ?অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকেও দাবি করা হচ্ছে, নির্বাচনের পর রাজ্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনা জরুরি। তাঁদের মতে, ক্ষমতার পালাবদলের সুযোগে কেউ যেন হিংসার পথ না নেয়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। তবে একই সঙ্গে বিজেপির অভিযোগ, কিছু জায়গায় তাঁদের দলকে বদনাম করার জন্য পরিকল্পিতভাবে ভাঙচুর বা দখলের চেষ্টা হয়েছে।দলের এক প্রবীণ নেতা বলেন, “আমাদের কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ থাকাটা স্বাভাবিক। অতীতে বহু কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। তবুও আমরা সংযম দেখিয়েছি এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করছি।” নির্বাচনের পর বাংলার রাজনৈতিক পরিবেশে এক নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। যেখানে বিরোধী শিবিরের সংগঠন হয়েও কিছু ক্ষেত্রে তৃণমূলের প্রতি নরম মনোভাব দেখানোর অভিযোগ উঠছে আরএসএসের বিরুদ্ধে।

Hot this week

‘ক্ষমা চাও’ – ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে অভিষেককে সময় বেঁধে দিলেন মদন

২১ জুলাইয়ের সভার দিন ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের...

অফিসের বাথরুমে ঝুলন্ত দেহ, ত্রিপুরার ডিজিপির মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা

ত্রিপুরার পুলিশ মহলে শোকের ছায়া। সোমবার আগরতলায় পুলিশ সদর...

Topics

‘ক্ষমা চাও’ – ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে অভিষেককে সময় বেঁধে দিলেন মদন

২১ জুলাইয়ের সভার দিন ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের...

অফিসের বাথরুমে ঝুলন্ত দেহ, ত্রিপুরার ডিজিপির মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা

ত্রিপুরার পুলিশ মহলে শোকের ছায়া। সোমবার আগরতলায় পুলিশ সদর...

‘ঘোর পাপ হয়েছে’—দু’মাস পর নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে মুখ খুললেন মোদি

নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। অনেক...

দশ বছরে সংঘ-ঘনিষ্ঠ ২০ সংস্থাকে ৬৬৮ কোটির বেশি অনুদান! ওএনজিসির সিএসআর তহবিল নিয়ে বিতর্ক

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থাকে সরকারি...

Related Articles

Popular Categories