লোকসভায় ‘অপারেশন লোটাস’-এর জেরে এবার তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলেও বড়সড় ভাঙন দেখা দিল। এনডিএ জোটে সামিল হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে সোমবারই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছেন তৃণমূলের একদল ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ। ঠিক এই আবহে সবথেকে বড় চমক দিয়ে সুর বদল করলেন যাদবপুরের তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ। রাজনৈতিক অন্দরমহলের খবর, এবার ওই বিদ্রোহী ব্লকেই নাম লেখাতে চলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এই নেত্রী। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি যে নতুন দলীয় কমিটি ঘোষণা করেছিলেন, তাতেও সায়নীকে যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রাখা হয়েছিল।
একসময় ‘বামমনস্কা’ হিসেবে পরিচিত সায়নী ঘোষ ছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচক। তবে পরবর্তীকালে মমতার হাত ধরেই তাঁর সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ ঘটে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর দলে তাঁর সাংগঠনিক ক্ষমতা ও গুরুত্ব এক ধাক্কায় অনেকটা বৃদ্ধি পায়। এরপর ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে হেভিওয়েট যাদবপুর কেন্দ্র থেকে জোড়াফুল শিবিরের টিকিটে জয়ী হয়ে সংসদে যান তিনি। লোকসভার সাংসদ হওয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই পুরোপুরি অনুকরণ করতে শুরু করেন সায়নী। পরনে সাদা শাড়ি এবং পায়ে সাধারণ হাওয়াই চটি গলিয়ে সায়নী যেন হয়ে উঠেছিলেন মমতারই ‘রেপ্লিকা’।
তৃণমূলের অন্দরে তিনি সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সেনাপতি’ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। অবশ্য সায়নীকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও কম হয়নি। সমাজমাধ্যমে তাঁর পুরনো ‘শিবলিঙ্গে কন্ডোম’ পরানোর বিতর্কিত পোস্টটি আজও বঙ্গ রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে। সেই কঠিন সময়েও দলনেত্রী ও দল সায়নীর পাশেই দাঁড়িয়েছিল। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই বিশ্বস্ত তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষের ‘বেসুরো’ অবস্থান এবং দলবদলের জল্পনা বাংলার শাসক শিবিরের কপালে নতুন করে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।


