উত্তরপ্রদেশের সম্ভল জেলায় একটি মাদ্রাসা ভাঙাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। প্রশাসনের অভিযানে শুধু মাদ্রাসা নয়, আশপাশের অন্তত ১০টি মুসলিম পরিবারের বাড়িও ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
জেলা প্রশাসনের দাবি, সরকারি জমিতে অবৈধ নির্মাণ হওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নরৌলি থানার অন্তর্গত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ওই মাদ্রাসাটি চলছিল বলে জানা গিয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, জমিটি খাস জমি হিসেবে নথিভুক্ত ছিল এবং নিয়ম না মেনেই সেখানে নির্মাণ করা হয়। আগাম নোটিস দেওয়ার পরই ভাঙার কাজ শুরু হয় বলে দাবি প্রশাসনের।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ভিন্ন। তাঁদের দাবি, বহু বছর ধরে এলাকায় মাদ্রাসাটি চালু ছিল এবং হঠাৎ করেই বুলডোজার নিয়ে এসে তা ভেঙে ফেলা হয়। শুধু তাই নয়, আশপাশের বেশ কয়েকটি বাড়িও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এক বাসিন্দা জানান, “আমাদের ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। কোথায় যাব, কী করব বুঝতে পারছি না।”
অভিযানের সময় এলাকায় বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন ছিল। পরিস্থিতি যাতে উত্তপ্ত না হয়, সেদিকে নজর রেখেছিল প্রশাসন। জেলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইন মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং যাঁদের নথি বৈধ, তাঁদের ক্ষেত্রে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধী শিবির প্রশ্ন তুলেছে, নির্বাচিতভাবে একটি সম্প্রদায়কে টার্গেট করা হচ্ছে কি না। যদিও প্রশাসন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ভাঙা বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি। তাঁদের একটাই দাবি—বিচার এবং পুনর্বাসনের স্পষ্ট আশ্বাস।


