বিহারে রাজনৈতিক পালাবদলের মধ্যেই নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলেও, তা ঘিরে উঠছে একের পর এক প্রশ্ন। বিজেপির নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর বুধবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন সম্রাট চৌধুরী। স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার রাজ্যে বিজেপির কোনও নেতা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসায় দল তা ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে তুলে ধরছে। তবে বিরোধীদের দাবি, এই পরিবর্তন আসলে ক্ষমতার অঙ্কের খেলাই বেশি, জনস্বার্থের প্রতিফলন কম।দীর্ঘদিন বিহারের রাজনীতিতে প্রভাবশালী মুখ ছিলেন নীতিশ কুমার। তাঁর রাজ্যসভায় যাওয়ার পর থেকেই নতুন মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। সেই দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন সম্রাট চৌধুরীই। কিন্তু তাঁর এই দ্রুত উত্থান নিয়ে এখনই প্রশ্ন তুলছে বিরোধী শিবির।রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে তিনি আরজেডির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং রাবড়ি দেবী-র মন্ত্রিসভাতেও জায়গা পেয়েছিলেন। পরে একাধিকবার দল বদল করে শেষমেশ বিজেপিতে যোগ দেন। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই রাজ্য সভাপতি থেকে উপমুখ্যমন্ত্রী এবং তারপর সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী—এই দ্রুত উন্নতি অনেকের কাছেই অস্বাভাবিক বলেই মনে হচ্ছে। সমালোচকদের বক্তব্য, বিজেপির ভিতরে যোগ্যতার চেয়ে আনুগত্যই এখানে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।অন্যদিকে, তাঁর সম্পত্তি নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, কয়েক বছরের মধ্যেই তাঁর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ বহুগুণ বেড়েছে। জমি, গয়না, নগদ অর্থ—সব মিলিয়ে কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক তিনি। বিরোধীদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জীবনে উন্নয়ন না এলেও শাসক দলের নেতাদের আর্থিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি ঘটছে।সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ঘিরে। তিনি নিজেকে ডক্টরেট ডিগ্রিধারী বলে দাবি করলেও, সেই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই ইস্যুতে সরব হয়েছেন রাজনৈতিক কৌশলবিদ প্রশান্ত কিশোর। তাঁর অভিযোগ, অতীতে দেওয়া হলফনামায় সম্রাট চৌধুরীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে, যা বর্তমান দাবির সঙ্গে মিলছে না।শুধু তাই নয়, অতীতে তাঁর নাম পরিবর্তন এবং বিভিন্ন মামলার উল্লেখও সামনে এসেছে। যদিও বিজেপি এসব অভিযোগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ, তবে বিরোধীদের মতে, এমন বিতর্কিত পটভূমির একজন নেতাকে মুখ্যমন্ত্রী করা রাজ্যের ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক। বিহারে বিজেপির এই নতুন সরকারকে ঘিরে যতটা উচ্ছ্বাস দেখানো হচ্ছে, তার চেয়ে অনেক বেশি প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।
বিহারের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর উপর ভুয়ো ডক্টরেট ডিগ্রির অভিযোগ, নজিরবিহীন সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
Popular Categories


