ছাত্রছাত্রীদের প্রতিবাদ যে দেশের রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে ইউরোপে। তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে চলা আন্দোলন একাধিক দেশে সরকারের কাছে অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে। শিক্ষা, দুর্নীতি এবং প্রশাসনের জবাবদিহির মতো বিষয়কে সামনে রেখে পথে নামছেন যুবক-যুবতীরা। এই পরিস্থিতিতে সার্বিয়ায় ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
সার্বিয়ায় ছাত্রদের ক্ষোভের সূত্রপাত একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে নোভি সাদ শহরের রেলস্টেশনের ছাউনি ভেঙে পড়ে প্রাণ হারান বহু মানুষ। এই ঘটনার পর প্রশাসনের ভূমিকা এবং সরকারি কাজকর্মের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করা, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন ছাত্রছাত্রীরা।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রতিবাদ আরও বড় আকার নেয়। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা আন্দোলনে যোগ দেন। তাঁদের সঙ্গে পথে নামেন সাধারণ নাগরিকেরাও। শুধু দুর্ঘটনার বিচার নয়, সরকারের কাছে জবাবদিহি এবং প্রশাসনিক সংস্কারের দাবিও জোরালো হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই আন্দোলন সার্বিয়ার রাজনীতিতে তরুণদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।
এই আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের দাবিকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসতে পেরেছেন। প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে থাকা তরুণদের একাংশ এখন সরাসরি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার কথাও ভাবছেন। তাঁদের মতে, রাস্তায় প্রতিবাদ করার পাশাপাশি নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রেও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন। তবে আন্দোলনের শক্তিকে নির্বাচনী সাফল্যে বদলে ফেলা সহজ নয়। তার জন্য সংগঠন, নেতৃত্ব এবং স্পষ্ট কর্মসূচির প্রয়োজন।
সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিচের দীর্ঘদিনের শাসনকে ঘিরেও নানা সময়ে বিরোধীদের সমালোচনা সামনে এসেছে। ছাত্র আন্দোলন সেই অসন্তোষকে আরও দৃশ্যমান করেছে। যদিও নির্বাচনে ছাত্রদের দল জয়ী হয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট পরাজয় স্বীকার করেছেন—এমন দাবির সত্যতা নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাই এই ঘটনাকে চূড়ান্ত রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে দেখার আগে তথ্য যাচাই জরুরি।
সার্বিয়ার পাশাপাশি ইউরোপের অন্য দেশেও তরুণদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে। মূল্যবৃদ্ধি, শিক্ষা ব্যবস্থার সমস্যা, কর্মসংস্থানের অভাব এবং সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে দ্রুত সংগঠিত হয়ে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও জেন জি-র ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে প্রতিবাদে জনসমর্থন পাওয়া আর দেশ পরিচালনা করা এক নয়। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, অর্থনীতি এবং জনকল্যাণের মতো বিষয় সামলানোর দায়িত্বও রয়েছে। তাই তরুণদের এই রাজনৈতিক উত্থান কতটা স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে, তা নির্ভর করবে তাঁদের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি ও কাজের উপর।


