যুদ্ধবিরতির বর্ষপূর্তির পরেও গাজ়ায় থামেনি রক্তপাত। ইজ়রায়েল ও হামাসের মধ্যে সংঘর্ষবিরতি কার্যকর হওয়ার পরেও ইজ়রায়েলি সেনার হামলায় ১,৪০০-র বেশি প্যালেস্টাইনি নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। গাজ়ায় ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে যুক্ত প্রায় ১০০টি সংগঠনের পরিসংখ্যানেও উঠে এসেছে হতাহতের এই ভয়াবহ চিত্র। যুদ্ধবিরতির পরেও উপত্যকাটিতে প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি এবং মানবিক সঙ্কট অব্যাহত থাকায় আন্তর্জাতিক মহলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলি।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল শনিবার সমাজমাধ্যমে এই পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে লিখেছে, ‘ধ্বংসস্তূপের নীচে জবাবদিহি চাপা দেওয়া যাবে না।’ সংগঠনগুলির অভিযোগ, ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরেও গাজ়ায় সংঘর্ষ ও হামলা অব্যাহত রয়েছে। ফলে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার সঙ্গে সাধারণ মানুষের বাস্তব পরিস্থিতির বিস্তর ফারাক থেকে গিয়েছে।
রিপোর্টে ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের নির্দেশ না মানার অভিযোগও তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে, ইজ়রায়েলকে ওই নির্দেশ মেনে চলতে বাধ্য করার ক্ষেত্রে আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলির ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেছে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলি।
শুধু প্রাণহানি নয়, গাজ়ায় মানবিক বিপর্যয় এবং অত্যাবশ্যকীয় পরিকাঠামোর সঙ্কটও ক্রমশ গভীর হচ্ছে বলে রিপোর্টে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ আশ্রয়হীন বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রায় ১৪ লক্ষ প্যালেস্টাইনি পর্যাপ্ত খাবারের অভাবে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
চিকিৎসা পরিষেবার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়েছে। রিপোর্টে গাজ়ার হাসপাতালগুলির পরিষেবা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার কথা বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর এই সঙ্কটের জেরে আহত ও অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা পাওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠেছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলি।
এই পরিস্থিতিতে গাজ়ার পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলি। তবে সেই পুনর্গঠন আন্তর্জাতিক আইন, ন্যায়বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন বলে রিপোর্টে সুপারিশ করা হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির পরেও যদি সাধারণ মানুষের প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি এবং খাদ্য ও চিকিৎসার সঙ্কট অব্যাহত থাকে, তবে সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক মহলের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি—এই বার্তাই তুলে ধরেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলি।


