প্রয়াগরাজে মাঘমেলা ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক অবসানের পথে, এমনই ইঙ্গিত মিলেছে জ্যোতির্পীঠের শঙ্করাচার্য স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতীর সহযোগীদের বক্তব্যে। তাঁদের দাবি, শঙ্করাচার্যের কাছে ক্ষমা চাইতে প্রস্তুত প্রয়াগরাজ প্রশাসন। যদিও এই বিষয়ে এখনও সরকারি ভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
চলতি মাসের শুরুতেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। শঙ্করাচার্য ও তাঁর অনুগামীরা অভিযোগ করেন, মাঘমেলার সময়ে প্রয়াগরাজের সঙ্গমে স্নান করতে গেলে তাঁদের বাধা দেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শঙ্করাচার্য রথে চড়ে স্নান করতে যাচ্ছিলেন। ভিড়ের মধ্যে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় তাঁর রথযাত্রা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং অন্য পুণ্যার্থীদের মতো তাঁকেও হেঁটে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। এই ঘটনাকে ‘অপমানজনক’ বলে অভিযোগ তোলেন শঙ্করাচার্য। এই টানাপড়েনের মধ্যেই বুধবার তিনি প্রয়াগরাজে স্নান না করেই বারাণসীতে চলে যান। তাঁর এই সিদ্ধান্তে স্থানীয় প্রশাসন বিস্মিত হয়। শঙ্করাচার্যের সহযোগী যোগীরাজ সরকার জানান, প্রশাসনের ধারণা ছিল মাঘপূর্ণিমার দিন স্নানের পর তিনি প্রয়াগরাজ ছাড়বেন। তার আগেই পরিস্থিতি মিটে যাবে বলে আশা করেছিলেন কর্মকর্তারা। কিন্তু শঙ্করাচার্য আচমকা চলে যাওয়ায় তাঁরা হতবাক হন।
বারাণসীতে পৌঁছনোর পর শঙ্করাচার্যের সঙ্গে দুই সরকারি আধিকারিক দেখা করেন এবং তাঁকে আবার মাঘমেলায় ফেরার অনুরোধ জানান। যোগীরাজের দাবি, সেই বৈঠকে শঙ্করাচার্য দু’টি শর্ত রাখেন প্রথমত, ঘটনার জন্য দায়ী কর্মকর্তাদের লিখিত ভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। দ্বিতীয়ত, শঙ্করাচার্যের জন্য নির্দিষ্ট প্রোটোকল মানতে হবে। তাঁকে পালকিতে করে সঙ্গমে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়, তবে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। এই ঘটনার জেরে শঙ্করাচার্য ও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের মধ্যে দূরত্ব আরও বেড়েছে। যদিও অনেকের মত, প্রশাসন যদি ক্ষমা চায়, তবে এই বিতর্কের অবসান হতে পারে।


