নদিয়ার শান্তিপুর শহরে একটি ভয়ঙ্কর ও উদ্বেগজনক ঘটনা আবার সামনে এসেছে। স্থানীয় মুসলিম কবরস্থান থেকে একাধিক মৃতদেহ চুরি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এবার এক-দুটি নয়, মোট চারটি কবর খুঁড়ে দেহ সরিয়ে নিয়ে গেছে দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনার জেরে এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
সোমবার সকালে কিছু বাসিন্দা কবরগুলো খোলা অবস্থায় দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে তারা থানায় খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে এবং আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে। দেখা যায়, কবরের কাছে ধূপ-ধুনোর চিহ্ন রয়েছে, যা ঘটনাকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে। চারটি কবরেই কোনো মৃতদেহ পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে এক মহিলার দেহও ছিল, বাকি তিনজন পুরুষ।
চুরি হওয়া দেহগুলোর মধ্যে একজন যুবক সম্প্রতি বিদেশে দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন। তাঁর দেহ দেশে এনে ওই কবরস্থানে সমাধিস্থ করা হয়েছিল। সেই দেহও নিখোঁজ। খবর ছড়িয়ে পড়তেই মৃতদের পরিবার ও আত্মীয়রা কবরস্থানে ছুটে আসেন। অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন, যা পরিস্থিতিকে আরও আবেগঘন করে তোলে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার সন্ধ্যায় এলাকার মানুষ থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান। তাদের দাবি, বহু বছর ধরে এই ধরনের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন এখনও পর্যন্ত কোনো অপরাধীকে ধরতে পারেনি। স্থানীয়দের মতে, প্রতি বছর বিশেষ করে চৈত্র মাসে এমন ঘটনা বেশি দেখা যায়।
এর আগে এই বিষয়ে বৈঠকও হয়েছিল, যেখানে কবরস্থানের নিরাপত্তা বাড়ানোর কথা বলা হয়। আলো বসানো, জঙ্গল পরিষ্কার করা ও নজরদারি ক্যামেরা লাগানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবুও বাস্তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকার মানুষ এখন দ্রুত তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।


