বিহারের রোহতাস জেলায় স্বামীর মর্মান্তিক মৃত্যুর শোক ও লাগাতার হুমকির আতঙ্কে এক মুসলিম মহিলা আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে এবং জানা গিয়েছে তাঁর দুই ছোট সন্তান এখনও মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে।
মৃত মহিলার নাম রেশমা খাতুন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার গভীর রাতে নিজের বাড়িতে তিনি বিষ খেয়ে নেন। তাঁর সঙ্গে বিষ খায় তাঁর চার বছরের মেয়ে তাইয়বা এবং দেড় বছরের ছেলে হামজাদও।
মঙ্গলবার সকালে প্রতিবেশীরা বাড়ির ভেতর থেকে কোনও সাড়া না পেয়ে সন্দেহ করেন। পরে তাঁরা ঘরে ঢুকে দেখেন, রেশমা ও তাঁর দুই সন্তান অচেতন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তড়িঘড়ি তাঁদের সাসারামের রাজ কলোনির একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে চিকিৎসা শুরু হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁদের বারাণসীতে রেফার করা হয়। চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা সত্ত্বেও রেশমা খাতুনকে বাঁচানো যায়নি। তাঁর দুই সন্তান এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
রোহতাস জেলার পুলিশ সুপার রোশন কুমার রেশমার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
এই ঘটনার পেছনে রয়েছে আরও একটি মর্মান্তিক অধ্যায়। কয়েক দিন আগেই, ২৪ মার্চ, জমি সংক্রান্ত বিবাদের জেরে রেশমার স্বামী, ৩২ বছরের হাসান রেজা খানকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা তাঁর হাত-পা বেঁধে রাজ্য সড়কে টেনে নিয়ে যায় এবং মারধর করে খুন করে। এই নৃশংস ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
এখনও পর্যন্ত এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত আটজনের মধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তরা পলাতক। পরিবারের দাবি, তারা লাগাতার হুমকি পাচ্ছিল এবং আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল। এমনকি যে ব্যক্তি ঘটনার ভিডিও তুলেছিলেন, তাকেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
চিকিৎসকদের মতে, রেশমা ও তাঁর সন্তানরা কীটনাশক জাতীয় বিষ পান করেছিলেন। পুলিশ বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য তল্লাশি চালাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, স্বামীর নির্মম হত্যাকাণ্ডের মানসিক আঘাত এবং অভিযুক্তদের হুমকির জেরে রেশমা এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। এই ঘটনায় এলাকায় শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।


