উত্তর প্রদেশের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছেন সমাজবাদী পার্টির নেতা শিবরাজ সিং যাদব। দলনেতা অখিলেশ যাদবের ঘনিষ্ঠ এই নেতা সম্প্রতি এক জনসভায় এমন কিছু মন্তব্য করেন, যা ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। সিরসাগঞ্জ বিধানসভার অন্তর্গত দান্দিয়ামাই গ্রামে ‘পিডিএ পাঠশালা’ শীর্ষক এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিবরাজ সিং যাদব বলেন, তিনি এমন কোনও ধর্মে বিশ্বাস করেন না যেখানে মানুষকে জাতের ভিত্তিতে ছোট করে দেখা হয়। এই সভাটি দলিত, অনগ্রসর শ্রেণি ও সংখ্যালঘুদের নিয়ে আয়োজন করা হয়েছিল।
বক্তৃতায় তিনি মনুস্মৃতিতে বর্ণিত জাতিভিত্তিক কাঠামোর প্রসঙ্গ তোলেন। শিবরাজ সিং যাদব বলেন, “আমরা ব্রাহ্মণ নই, ক্ষত্রিয় নই, বৈশ্যও নই। তাহলে কী থাকে? শূদ্র।” তার দাবি, এই ধরনের শ্রেণিবিভাগ মানুষের মর্যাদাকে আঘাত করে।
তিনি আরও বলেন, হিন্দু পরিচয় গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক নয়। তার কথায়, “আমি নিজেকে আগে মানুষ মনে করি। যে ধর্ম মানুষকে কুকুরের থেকেও নিচে নামিয়ে দেয়, সেই ধর্ম আমি মানি না।” এই মন্তব্যের পরই হিন্দুত্ববাদী শিবিরে প্রবল সমালোচনা শুরু হয়।
শিবরাজ সিং যাদব কেন্দ্রীয় ও উত্তর প্রদেশের বিজেপি সরকারকেও আক্রমণ করেন। তার অভিযোগ, বর্তমান শাসনে দলিত ও অনগ্রসর শ্রেণির উপর অত্যাচারের ঘটনা বেড়েছে। পিডিএ (পিছড়া, দলিত, সংখ্যালঘু) ধারণা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এই তিন শ্রেণি মিলিয়ে দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ হলেও প্রকৃত ক্ষমতা কিছু গোষ্ঠীর হাতেই রয়ে গেছে। অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ তোলা হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশ বিজেপির মুখপাত্র ভিনুশা রেড্ডি বলেন, শিবরাজ সিং যাদব হিন্দু সমাজকে ভাগ করার রাজনীতি করছেন।


