উত্তরপ্রদেশের ফাফামউ এলাকাজুড়ে এসআইআর (স্পেশাল ইন্টার সামারি রিভিশন) নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, যদি ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ে, তাহলে নাগরিকত্ব নিয়েই বিপদ দেখা দিতে পারে। এই ভয় এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বাড়িতে বাড়িতে ফর্ম নিয়ে গেলেও অনেকেই তা নিতে চাইছেন না। উলটে তারা প্রশ্নের মুখে ফেলছেন বিএলওদের।
জানা গিয়েছে, এই মুহূর্তে বিএলওদের কাছে মানুষের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, নাম না উঠলে সেই দায় নেবে কে।” এই পরিস্থিতিতে বিড়ম্বনায় পড়ছেন বিএলওরা। অনেকেই বলছেন, কাজ করতে গিয়ে যদি কারও নাম বাদ পড়ে যায় তাহলে এর দায়ভার তাদেরকেই নিতে হবে। এমন আশঙ্কা থেকেই অনেক বিএলওরা ফর্ম বিতরণ থেকে দূরে থাকছেন।
যদিও জেলা প্রশাসনের দাবি ভিন্ন। জেলা শাসক মণীশ কুমার ভার্মা জানান, ভোটার তালিকা নিখুঁত করতে এসআইআর করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, একই ব্যক্তির নাম একাধিক কেন্দ্রে আছে। তা ঠিক করতেই এই উদ্যোগ। তবে মানুষ কেন ফর্ম নিতে চাইছেন না সে বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করেননি। সরকারি তথ্য বলছে, ফাফামউ বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটার প্রায় ৪৭ লক্ষ। এর মধ্যে মাত্র দেড় লক্ষ মানুষের কাছে এখনো পৌঁছতে পেরেছেন বিএলওরা। ফলে নির্ধারিত ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এদিকে বিএলওদের ওপর চাপও বাড়ছে। অভিযোগ উঠেছে, কাজ ঠিকমতো না করায় অনেকের বেতন বন্ধ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই একজন বিএলওর বিরুদ্ধে এফআইআরও দায়ের হয়েছে। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী শকুন্তলা যাদব জানান, ফর্ম বিতরণ করতে অস্বীকার করায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। রীতা পাণ্ডে, সুনীতা মৌর্যসহ আরও কয়েকজন কর্মীর বেতনও আটকে গেছে বলে জানা গিয়েছে। বিএলওদের কথায়, গ্রামাঞ্চলে তাদের এই সমস্যার সম্মুখীন বেশি হতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষ তাদের সন্দেহের চোখে দেখছেন। অনেকেই ফর্ম নিতে অস্বীকার করছেন। এই পরিস্থিতিতে কাজ করা তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে উঠছে।


