নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া (এসআইআর) ঘিরে ফের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়ার পরেও মাধ্যমিক (ক্লাস ১০) পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণ করা হবে কি না, তা নিয়ে প্রশাসনের অন্দরেই মতভেদ দেখা দিয়েছে। এর জেরে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রশাসনিক স্তরেও বিভ্রান্তি বাড়ছে বলে অভিযোগ।
সুপ্রিম কোর্ট আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, শুনানির সময় জন্মতারিখ প্রমাণের জন্য মাধ্যমিক অ্যাডমিট কার্ড জমা দেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি মাধ্যমিক পাশের সার্টিফিকেটও গ্রহণযোগ্য নথি হিসেবে বিবেচিত হবে। কিন্তু রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের একাংশের দাবি, অ্যাডমিট কার্ড শুধুমাত্র বয়সের তথ্য যাচাই করবে। নাগরিকত্ব বা পরিচয় নিশ্চিত করতে হলে কমিশনের নির্দিষ্ট তালিকায় থাকা অন্য কোনও নথি অবশ্যই জমা দিতে হবে। ফলে শুধুমাত্র অ্যাডমিট কার্ড দিলেই সব প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে না।
তবে বাস্তবে অন্য ছবি ধরা পড়ছে। একাধিক জেলায় জেলা নির্বাচন আধিকারিকরা শুনানির সময় মাধ্যমিক অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণ করছেন বলে জানা গিয়েছে। এতে করে কমিশনের ভিতরের অবস্থান আরও অস্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে নবান্নের ভূমিকা নিয়েও জোর চর্চা শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, সাম্প্রতিক এক বৈঠকে জেলা শাসক ও নির্বাচন আধিকারিকদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানতে হবে। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি নিয়ে কঠোর মনোভাব নেন বলে দাবি। পাশাপাশি মুখ্যসচিবও ইঙ্গিত দেন, আদালতের নির্দেশ মানা না হলে রাজ্য সরকার আইনি পদক্ষেপ করতে পারে।
এদিকে কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, যারা এতদিন রেশন কার্ড, ব্যাঙ্ক পাসবুক বা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের শংসাপত্র জমা দিয়েছেন, সেগুলি অনুমোদিত তালিকায় না থাকায় বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে নির্বাচন কমিশন ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ ও ‘আনম্যাপড’ ভোটারদের তালিকা প্রকাশ করতে চলেছে। গ্রাম পঞ্চায়েত, ব্লক ও ওয়ার্ড অফিসে এই তালিকা টাঙানো হবে। তালিকায় নাম থাকলে ভোটাররা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নথি জমা ও শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন।


