সিউড়িতে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় এমন একটি দৃশ্য সামনে আসে, যা শাসক দলের অন্দরেই অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোমবার ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে দলের প্রার্থীর সমর্থনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি মঞ্চে উপস্থিত কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলোচনা করছিলেন। সেই সময়ই বীরভূমের পরিচিত নেতা অনুব্রত মণ্ডলকে কাছে ডাকেন তিনি। কিন্তু পরিস্থিতি তখন অন্য দিকে মোড় নেয়। চোখে পড়ে, অনুব্রত মণ্ডল যেন কিছুটা বিরক্ত হয়ে হাত নেড়ে নেত্রীর কথার প্রতিক্রিয়া জানান এবং সেখান থেকে সরে যান। পুরো ঘটনাটি ক্যামেরায় ধরা পড়ে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে যায়। এই আচরণ নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, দলের ভেতরে চলা মতবিরোধই এই ঘটনার মূল কারণ। বিশেষ করে অনুব্রত মণ্ডল ও কাজল শেখের মধ্যে দীর্ঘদিনের দূরত্বের বিষয়টি আবার সামনে এসেছে। জানা যাচ্ছে, বীরভূমে দলের কাজকর্ম এবং দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে কিছু মতানৈক্য রয়েছে। সভায় সেই বিষয়েই আলোচনা চলছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে।অনেকের ধারণা, দায়িত্ব ভাগাভাগি নিয়ে প্রস্তাবে অসন্তুষ্ট হয়েই অনুব্রত এমন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলতে চাননি, তবে ঘটনার পর রাজনৈতিক জল্পনা আরও বেড়েছে।
এক সময় বীরভূমে অনুব্রত মণ্ডলের প্রভাব ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। কিন্তু কিছু আইনি জটিলতার পর পরিস্থিতি বদলায় এবং নতুন নেতৃত্ব উঠে আসে। সেই থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ভোটের আগে এই ধরনের ঘটনা দলের জন্য কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অনেকেই ভাবছেন, এই অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন ভবিষ্যতে নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে কি না। সিউড়ির এই ঘটনার পর এখন সবার নজর বীরভূমের রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকেই।


