ভোটের ঠিক আগে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রীর গাড়ি তল্লাশি করার কথা বলা হয়েছে। একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার স্ক্রিনশট প্রকাশ করে এই অভিযোগ সামনে আনে তৃণমূল কংগ্রেস।
দলের দাবি, ওই বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে যে স্বাস্থ্য শিবিরের আড়ালে টাকা লেনদেনের সন্দেহ রয়েছে। সেই কারণেই নাকি তৃণমূলের বিভিন্ন নেতা-মন্ত্রীর গাড়ি তল্লাশি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে সেখানে বিশেষভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের তরফে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। তাদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরেই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। দলের অভিযোগ, ভোটের আগে বিরোধীদের চাপে ফেলতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, রাজ্যে খুব শীঘ্রই বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। সেই কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অবাধ ভোট নিশ্চিত করার দায়িত্ব এখন নির্বাচন কমিশনের হাতে। ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক স্তরে বেশ কিছু বদল করা হয়েছে। বিভিন্ন পুলিশ আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে, যা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সামনে আসা হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। যদিও এই বার্তার সত্যতা নিয়ে এখনও কিছু জানানো হয়নি। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে কোনও স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ভোটের আগে এই ধরনের ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। একদিকে শাসক দলের অভিযোগ, অন্যদিকে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে ক্রমেই।
এদিকে, বিজেপির তরফে এখনও এই অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, এই ইস্যু ভোটের আগে বড় প্রভাব ফেলতে পারে কি না। ভোটের আগে এই ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক লড়াইকে তীব্র করেছে।


