
ভাদাদোরা, গুজরাত: স্থানীয় একটি আবাসনে চাঞ্চল্যকর এক যৌন নিপীড়নের ঘটনায় ষাট বছরের এক ট্যাক্সি চালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা গেছে, ওই ব্যক্তি এক নাবালিকাকে চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ফ্ল্যাটের বেসমেন্টে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন চালায়। ঘটনাটি গতকাল রোববার প্রকাশ পায়।
সূত্রে জানা যায়, ভাদাদোরা শহরের একটি ফ্ল্যাটে বসবাসকারী অভিযুক্ত বয়স্ক ব্যক্তি প্রতিবেশী ১৬ বছর বয়সী মেয়েটির সঙ্গে সুপরিচিত ছিল। সে মেয়েটিকে চকলেট খাওয়ার প্রস্তাব দিয়ে বেসমেন্টে নিয়ে যায়। সেখানে জোরপূর্বক তার গলা চেপে ধরে কিশোরীর ওপর বীভৎস নির্যাতন চালানো হয়। ঘটনার পর মেয়েটিকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে চুপ থাকতে বাধ্য করে অপরাধী।
নির্যাতিত মেয়েটি প্রথমে আতঙ্কিত হয়ে পরিবারের কাছে ঘটনা গোপন রাখলেও তার অস্বাভাবিক আচরণে সন্দিহান হয়ে ওঠেন মা-বাবা। জিজ্ঞাসাবাদের পর মেয়েটি সমস্ত ঘটনা খুলে বলে। বাবা-মা তৎক্ষণাৎ স্থানীয় পুলিশে অভিযোগ দায়ের করলে তদন্তে নামে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। আবাসনের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে নির্যাতনের স্পষ্ট প্রমাণ মেলে। পুলিশ অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করে।
পকসো (POCSO) আইনের অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া, ফরেনসিক পরীক্ষাসহ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহে তৎপর তদন্তকারী দল। স্থানীয়দের মতে, অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরি ওই এলাকায় ট্যাক্সি চালাতো এবং স্থানীয়দের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক ছিল। এই ঘটনায় সম্প্রদায়ে উত্তপ্ত প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
পুলিশ কমিশনার একটি সংবাদ সম্মেলনে জানান, “নাবালিকাদের সুরক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি মেনে চলা হচ্ছে।” ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারকে।
এই মামলার প্রেক্ষাপটে শিশু-কিশোরদের প্রতি সচেতনতা বাড়ানো এবং পারিবারিক পর্যায়ে সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারের ওপর জোর দিচ্ছেন সমাজকর্মীরা।