প্রজাতন্ত্র দিবসের ঠিক আগের দিন, ২৫ জানুয়ারি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানার ঝুলপিয়া এলাকায় এক নৃশংস হামলার ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় তিনজন মুসলিম মাংস ব্যবসায়ীকে ঘিরে মারধর ও অপমানের অভিযোগ উঠেছে একদল মানুষের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
আক্রান্তরা হলেন ফরাজ আলি পিয়াদা (৩৫), আকাশ আলি পিয়াদা (৩৭) এবং আনসার আলি পিয়াদা (২৯)। তারা দীর্ঘদিন ধরে বারুইপুরের খোদার বাজার মধ্যপাড়ার বাসিন্দা এবং কাছারি বাজারে একটি মাটনের দোকান চালান। পরিবারের দাবি, প্রায় ৪০-৫০ জনের একটি দল তাদের উপর হামলা চালায়।
সেদিন সকালে মাংসের মান নিয়ে কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে সামান্য বচসা হয়। কিন্তু সন্ধ্যার পর হঠাৎ উত্তেজনা বাড়ে। অভিযোগ, ঝুলপিয়া কয়লার মোড়ে ফরাজকে আটকে একটি গ্রামে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এবং তাকে বাংলাদেশি বলে কটূক্তিও করা হয়।
ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে আকাশও হামলার শিকার হন। তার কাছ থেকে পরিচয়পত্র চাওয়া হয় এবং অপমানজনক কথা লিখতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ। পরিবারের মহিলারাও রেহাই পাননি বলে জানা যায়। আকাশের স্ত্রী সুজাতা বিবি অভিযোগ করেন, তাকে হেনস্থা করা হয়েছে এবং মারধর করা হয়েছে। দুষ্কৃতীরা মূল্যবান জিনিসপত্রও লুট করে বলে অভিযোগ।
গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকেই বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসার পর বাড়ি ফিরলেও তারা এখনও শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। পুলিশ ঘটনায় মামলা রুজু করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলিও দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছে। প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে এমন ঘটনা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।


