দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং সম্প্রতি ইসরাইলের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়, যা পরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে।
ঘটনাটি শুরু হয় যখন প্রেসিডেন্ট লি সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও দেখে সেখানে মন্তব্য করেন। ভিডিওটির বর্ণনায় দাবি করা হয়েছিল, ইসরাইলি সেনারা এক ফিলিস্তিনি শিশুকে নির্যাতন করছে এবং তাকে একটি ভবনের ছাদ থেকে ফেলে দিচ্ছে। এই বিষয়ে লি লেখেন, বিষয়টি সত্য কি না তা যাচাই করা দরকার, এবং যদি সত্য হয়, তবে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সেটাও জানা উচিত।
তবে পরে জানা যায়, ভিডিওটি সাম্প্রতিক নয়। এটি আসলে কয়েক বছর আগের একটি ঘটনার ফুটেজ। সেখানে দেখা গিয়েছিল, এক ইসরাইলি সেনা একটি গুরুতর আহত ব্যক্তিকে ছাদ থেকে নিচে ফেলে দিচ্ছে। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনার সৃষ্টি করেছিল।
ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রেসিডেন্ট লি- এর মন্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করে। তাদের দাবি, এটি পুরোনো ঘটনা, যা ইতিমধ্যে তদন্ত করে সমাধান করা হয়েছে। পাশাপাশি তারা অভিযোগ তোলে, একটি ভুয়া সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে ভুল তথ্য ছড়িয়ে এই বিষয়টি নতুন করে সামনে আনা হয়েছে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। তারা জানায়, প্রেসিডেন্ট লির বক্তব্য কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং বিশ্বব্যাপী মানবাধিকারের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান। প্রেসিডেন্ট লি পরে আবারও এক প্রতিবেদনের নিচে মন্তব্য করে বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার মানুষের কষ্টকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, একজন মানুষের ব্যথা অন্যদের কাছেও সমানভাবে অনুভূত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়া সত্ত্বেও দক্ষিণ কোরিয়া সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখে এবং কোনো পক্ষকে সরাসরি সমর্থন করে না। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং- এর এমন মন্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে ও রাজনৈতিক উত্তাপ বৃদ্ধি করছে এবং নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জন্ম দিয়েছে।


