রাজ্যে ভোটার তালিকা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত সোমবার গভীর রাতে প্রকাশিত হয়েছে প্রথম সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ধাপে ধাপে আরও কয়েকটি তালিকা প্রকাশ করা হবে। তবে প্রথম তালিকা প্রকাশের পর থেকেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে, বিপুল সংখ্যক বিচারাধীন আবেদন থেকে ঠিক কতজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং কতজনের নাম বাদ পড়েছে—তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট সরকারি তথ্য সামনে আসেনি।
এই পরিস্থিতিতে বিভ্রান্তি আরও বাড়িয়েছে নির্বাচন দফতরের নীরবতা। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগারওয়াল সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন, বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন থাকায় এ নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তিনি শুধু জানান, দুটি আলাদা তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে—একটিতে চূড়ান্তভাবে অন্তর্ভুক্ত ভোটারদের নাম এবং অন্যটিতে বাদ পড়া ব্যক্তিদের নাম রয়েছে।
সমস্যা তৈরি হয়েছে মূলত দ্বিতীয় তালিকাকে ঘিরে। যাদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের অনেকেই দাবি করছেন যে তাঁরা বৈধ ভোটার। ফলে এই বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ ও উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, যাদের নাম বাদ গিয়েছে তারা চাইলে কলকাতা হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে গঠিত ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন। এই ট্রাইব্যুনালগুলি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে তৈরি করা হয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী, তালিকা প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে এই আবেদন জানাতে হবে। ইতিমধ্যেই ১৯টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। কিন্তু কীভাবে এবং কোথায় আবেদন করতে হবে, সেই বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ। অনেকেই জানাচ্ছেন, আবেদন পদ্ধতি নিয়ে যথেষ্ট তথ্য না থাকায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, অনলাইন এবং অফলাইন—এই দুই পদ্ধতিতে আবেদন করা যাবে। অনলাইনে আবেদন করতে হলে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে। অন্যদিকে, অফলাইনে আবেদন জানাতে গেলে জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক বা মহকুমাশাসকের দফতরে যেতে হবে। সেখানে জমা পড়া আবেদন পরে ডিজিটাল মাধ্যমে আপলোড করা হবে।
তবে বাস্তবে এই প্রক্রিয়া এতটা সহজ নয় বলেই অভিযোগ উঠছে। হাওড়ার এক বাসিন্দা জানান, তিনি অনলাইনে আবেদন করার চেষ্টা করেও কোনও সঠিক অপশন খুঁজে পাননি। এরপর জেলা ও মহকুমা স্তরের বিভিন্ন দফতরে ঘুরেও কোনও স্পষ্ট দিশা পাননি। সময়সীমা মাত্র ১৫ দিন হওয়ায় তাঁর মতো অনেকেই উদ্বেগে রয়েছেন।
এদিকে প্রশাসনিক স্তরে ট্রাইব্যুনাল চালু করার প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, প্রাক্তন বিচারকদের জন্য প্রয়োজনীয় অফিস ও অন্যান্য পরিকাঠামো তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্মী নিয়োগের কাজও দ্রুত সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে।
তবুও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা কাটছে না। সুপ্রিম কোর্ট আগেই জানিয়েছে, কোনও প্রকৃত ভোটার যেন তালিকা থেকে বাদ না পড়েন, সে বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে হবে। কিন্তু হাতে অল্প সময় থাকায় অনেকেই আশঙ্কা করছেন, সব আবেদন ঠিকমতো শুনানি হবে কি না। ভোটের আগে এই জটিল পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।


