মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে দেশের জ্বালানি বাজারেও। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পেট্রল ও ডিজেলের দাম বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এলপিজি গ্যাসের ঘাটতি এবং কালোবাজারি নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। বিশেষ করে গ্রাম ও শহরতলির এলাকায় রান্নার গ্যাস পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠছে, এই সংকটের পেছনে রয়েছে সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং প্রশাসনিক নজরদারির অভাব।
সরকার সম্প্রতি জ্বালানির ওপর ধার্য অতিরিক্ত শুল্ক কমানোর ঘোষণা করেছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, পেট্রলের ওপর যে বাড়তি কর আগে প্রতি লিটারে ১৩ টাকা ছিল, তা কমিয়ে ৩ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। একইভাবে ডিজেলের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে প্রতি লিটারে ১০ টাকা শুল্ক নেওয়া হলেও, এখন তা সম্পূর্ণভাবে তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে ডিজেলের ওপর আর কোনও অতিরিক্ত কর থাকছে না। অনেক গ্রাহক জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ে সিলিন্ডার সরবরাহ না পাওয়ায় তাদের অতিরিক্ত দামে কালোবাজার থেকে গ্যাস কিনতে বাধ্য হতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের আর্থিক চাপ আরও বেড়ে যাচ্ছে। স্থানীয় ডিলারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা মজুত করে রেখে বেশি দামে বিক্রি করছেন। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী দলগুলো ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, সরকার যথাযথভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা করতে পারছে না।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা এতদিন ক্ষতির মুখে পড়ছিল। শুল্ক কমানোর ফলে তাদের সেই চাপ কিছুটা কমবে, মনে করা হচ্ছে। শুধু পেট্রল ও ডিজেল নয়, বিমানের জ্বালানির ক্ষেত্রেও কর কমানো হয়েছে। অ্যাভিয়েশন টার্বাইন ফুয়েলের ওপর যে অতিরিক্ত কর ছিল, সেটিও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা হয়েছে। এর ফলে বিমান পরিষেবার খরচ কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে এখনও পর্যন্ত খুচরা বাজারে পেট্রল ও ডিজেলের দামে সরাসরি কোনও পরিবর্তন দেখা যায়নি। সরকার জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। তাই সাধারণ মানুষকে কোনও গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এদিকে, দেশের সব তেল শোধনাগার পুরো ক্ষমতায় কাজ করছে এবং সেখানে কাঁচা তেলের যথেষ্ট মজুত রয়েছে। পাশাপাশি, এলপিজি উৎপাদনও বাড়ানো হয়েছে যাতে চাহিদা মেটানো যায়। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হল জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সাধারণ মানুষকে বাড়তি চাপ থেকে রক্ষা করা। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অনিশ্চিত হলেও, দেশের জ্বালানি সরবরাহ যাতে ব্যাহত না হয়, সে দিকেই বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।


