সিএএ অনুযায়ী নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেও যাঁরা এখনও নাগরিকত্বের শংসাপত্র পাননি, তাঁদের ভোটার তালিকায় নাম তোলা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, নাগরিকত্ব না থাকলে কেউই ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারেন না। আত্মদীপ নামে একটি এনজিও আদালতে আবেদন করে জানতে চেয়েছিল, সিএএ-র নিয়ম মেনে আবেদন করা মানুষরা কেন এখনও ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম তুলতে পারছেন না। তারা কমিশনকে এই বিষয়ে নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধও করে। কিন্তু আদালত স্পষ্ট জানায়, সংশোধিত আইনে নাগরিকত্ব দেওয়ার আগে প্রত্যেকের দাবি আলাদা করে খতিয়ে দেখতে হবে। কে কোন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের, কোন দেশ থেকে এসেছেন, অথবা ভারতে জন্ম বা বসবাসের কোনও নথি আছে কি না। এসব যাচাই শেষ না হলে নাগরিকত্ব দেওয়া সম্ভব নয়। তাই বিচারপতির মন্তব্য, “গাড়িকে ঘোড়ার আগে রাখা যায় না। আগে নাগরিকত্ব, তারপর ভোটার তালিকা।”
এই পর্যবেক্ষণের ফলে মতুয়া সমাজের অনেকের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিতে পারে। কারণ ২০১৯ সাল থেকে কেন্দ্রীয় সরকার ও শীর্ষ নেতাদের আশ্বাস সত্ত্বেও বহু মতুয়া নাগরিকত্বের শংসাপত্র পাননি। অমিত শাহ মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে সভা করে নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তবুও বাস্তবে বহু মানুষের আবেদন এখনও স্থগিত আছে। শুনানির সময় এনজিও-র আইনজীবী করুণা নন্দী যুক্তি দেন, নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট একটি সময়সীমা থাকা উচিত। তিনি একটি পুরনো মামলার উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেখানে ছয় মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব দিতে আদালত নির্দেশ করেছিল। যদিও সুপ্রিম কোর্ট জানায়, এখানে আবেদনকারীরা ব্যক্তিগতভাবে নয়, এনজিও-এর মাধ্যমে আবেদন করেছেন। আদালত শুধু সরকারের কাজ দ্রুত করার নির্দেশ দিতে পারে।অবশেষে আদালত অ্যাটর্নি জেনারেলের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারকে নোটিশ পাঠায় এবং জানায়, আগামী সপ্তাহে ফের শুনানি হবে।


