উত্তরপ্রদেশের এক পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে মুসলিম সম্প্রদায়কে অপমান করার অভিযোগে একটি অডিও ক্লিপ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানায়, ডিআইজি সঞ্জীব ত্যাগীকে ওই অডিওর সঙ্গে মিলিয়ে দেখার জন্য নিজের ভয়েস স্যাম্পল জমা দিতে হবে। এই পরীক্ষা হবে হায়দরাবাদের রাজ্য ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে।
এই মামলায় আরও এক বড় সিদ্ধান্ত নেন বিচারপতিরা। ৭৩ বছরের ইসলামউদ্দিন আনসারির বিরুদ্ধে চলতে থাকা ফৌজদারি মামলা পুরোপুরি বাতিল করে দেওয়া হয়। আদালত স্পষ্টভাবে জানায়, তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা ছিল ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আইনি প্রক্রিয়ার অপমান। বিচারপতিরা সতর্ক করেছেন, এখন থেকে আনসারিকে কোনও ভাবে ভয় দেখানো বা হেনস্থা করা হলে তিনি সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করতে পারবেন।
ঘটনার সূত্র ২০২০ সালের মার্চ মাসে। আনসারি ব্যক্তিগতভাবে একটি অডিও ক্লিপ ত্যাগীর মোবাইলে পাঠিয়ে জানতে চান, সেটির কণ্ঠস্বর তাঁর কি না। কিন্তু উত্তর পাওয়ার বদলে তিনি নিজেই বিপাকে পড়েন। কোতওয়ালি শহর থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয় আইপিসি ৫০৫ এবং আইটি আইনের ৬৭ ধারায় অভিযোগ ছিল, ওই ক্লিপ নাকি সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
আনসারির দাবি, পুলিশ তার দেহরাদুনের বাড়িতে হানা দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জেরা করে, মোবাইল-মানিব্যাগ বাজেয়াপ্ত করে । ২০২০ সালের জুলাইয়ে চার্জশিট জমা পড়ে, ২০২১ সালে তাকে আদালতে হাজির হওয়ার নোটিস দেওয়া হয়।
সুপ্রিম কোর্টে তিনি জানান, তিনি ক্লিপটি কাউকে দেন নি, শুধু পরিচিত এক পুলিশকর্মীর কাছে সত্যতা জানতে চেয়েছিলেন। তাই তার বিরুদ্ধে এই মামলা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। আগে আলাহাবাদ হাই কোর্ট তার আবেদনে সাড়া দেয়নি। পরে তিনি সুপ্রিম কোর্টে আসেন। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, আদালতের এই সিদ্ধান্ত দেখিয়ে দেয় আইনকে ব্যবহার করে নিরীহ মানুষের উপর চাপ সৃষ্টি করা কত সহজ।


