সোমবার সুপ্রিম কোর্টে অসমের মুখ্যমন্ত্রী সীমন্ত বিশ্ব শর্মার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মুসলিমদের লক্ষ্য করে ঘৃণাত্মক বক্তব্য সংক্রান্ত একাধিক মামলায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করেছে। সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের অধীনে করা এই আবেদনগুলিতে পদক্ষেপের দাবি জানানো হলেও শীর্ষ আদালত আবেদনকারীদের গৌহাটি হাইকোর্টে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চলি-র বেঞ্চ জানায়, এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টই সম্পূর্ণভাবে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। তাই সুপ্রিম কোর্টে শুনানির প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে গৌহাটি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে দ্রুত শুনানির ব্যবস্থা করার অনুরোধও জানানো হয়।
শুনানির শুরুতেই প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, নির্বাচন এলেই আদালতকে রাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দান বানানোর প্রবণতা বাড়ছে। তিনি রাজনৈতিক দলগুলিকে পারস্পরিক সম্মান ও সংযম বজায় রেখে ভোটে লড়ার পরামর্শ দেন।
আবেদনকারীদের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি যুক্তি দেন, বিষয়টি শুধু ফৌজদারি অপরাধ নয়, সাংবিধানিক শপথ লঙ্ঘনের সঙ্গেও জড়িত। তিনি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠনের দাবি জানান এবং বলেন, মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকা ব্যক্তির ক্ষেত্রে হাইকোর্ট কার্যকর নাও হতে পারে। তবে প্রধান বিচারপতি এই যুক্তি মানতে চাননি। তিনি বলেন, হাইকোর্টের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত নয়।
আবেদনকারীদের আরেক আইনজীবী নিজাম পাশা প্রস্তাব দেন, প্রয়োজনে হাইকোর্ট বাইরের রাজ্যের আধিকারিকদের নিয়ে সিট গঠন করতে পারে। এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতি জানান, সেই ক্ষমতা হাইকোর্টের রয়েছে।
এই মামলাগুলির মধ্যে দুটি দায়ের করে সিপিএম এবং সিপিআই নেত্রী অ্যানি রাজা। অন্য একটি আবেদন করেন চার অসমবাসী—ড. হিরেন গোহাইন, প্রাক্তন ডিজিপি হরেকৃষ্ণ ডেকা, সাংবাদিক পরেশ চন্দ্র মালাকার ও আইনজীবী শান্তনু বড়ঠাকুর। অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী একাধিকবার অপমানজনক ভাবে “মিয়া” ও “বাংলাদেশি” শব্দ ব্যবহার করে বাঙালিভাষী মুসলিমদের আক্রমণ করেছেন এবং সামাজিক-আর্থিক বয়কটের আহ্বান জানিয়েছেন।


