মুঘল সম্রাট বাবরের নামে প্রস্তাবিত একটি মসজিদ নির্মাণ নিয়ে নতুন করে আইনি জটিলতা তৈরি হল। বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া এক আবেদনের শুনানিতে শীর্ষ আদালত আপাতত হস্তক্ষেপে অনীহা প্রকাশ করেছে।
আবেদনকারীর দাবি, দেশের ইতিহাসে বাবরকে ঘিরে বিতর্ক রয়েছে। সেই কারণে তাঁর নামে কোনও ধর্মীয় স্থাপনা গড়ে তোলা হলে তা অযথা উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। এই প্রেক্ষিতে নির্মাণ প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি।
শুনানির সময় বিচারপতিরা স্পষ্ট করে জানান, কোনও ধর্মীয় স্থাপনার নামকরণ বা নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয় সরাসরি আদালতের হস্তক্ষেপের আওতায় পড়ে না, যদি না তা আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন তোলে। আদালত আরও জানায়, সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার প্রয়োজন মনে করলে বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।
আদালতকক্ষেই আবেদনকারী যুক্তি দেন, ইতিহাসে বাবরকে “আক্রমণকারী” হিসেবে দেখা হয়। তাঁর নামে মসজিদ গড়া হলে সামাজিক সম্প্রীতিতে প্রভাব পড়তে পারে। তবে বিচারপতিরা প্রশ্ন তোলেন, কেবল নামের ভিত্তিতে কোনও নির্মাণ থামিয়ে দেওয়া যায় কি না।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পর অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের পথ সুগম হয় এবং বিকল্প জমিতে মসজিদ তৈরির সিদ্ধান্তও হয়। সেই প্রেক্ষাপটেই নতুন মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে প্রস্তাবিত নাম নিয়ে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।
আইনজীবীদের একাংশের মতে, ধর্মীয় স্থাপনার নামকরণ মূলত সংশ্লিষ্ট ট্রাস্ট বা পরিচালন কমিটির সিদ্ধান্তের বিষয়। আদালত সাধারণত সেখানে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে না, যদি না সাংবিধানিক প্রশ্ন ওঠে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও চর্চা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, ইতিহাসের চরিত্রদের ঘিরে আবেগ থাকতেই পারে, কিন্তু তা যেন সামাজিক সম্প্রীতিতে প্রভাব না ফেলে।
আদালতের পর্যবেক্ষণের পর আবেদনটি কার্যত খারিজ হয়েছে বলেই আইন মহলের ব্যাখ্যা। তবে বিতর্ক যে এখানেই থামছে না, তা স্পষ্ট।


