সুপ্রিম কোর্ট বুধবার ওয়াকফ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়ে স্পষ্ট করে দিল, কোন ধরনের সম্পত্তি নিয়ে ওয়াকফ ট্রাইব্যুনাল বিচার করতে পারবে আর কোন ক্ষেত্রে পারবে না। আদালত জানায়, শুধু ব্যবহারের ভিত্তিতে কোনো জমি বা ভবনকে ওয়াকফ বলে দাবি করা হলে সেই বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের কোনো এক্তিয়ার নেই। ট্রাইব্যুনাল কেবলমাত্র সেই সব সম্পত্তির মামলা শুনতে পারবে, যেগুলি আনুষ্ঠানিক ভাবে ওয়াকফ বোর্ডে নথিভুক্ত এবং সরকারি ওয়াকফ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।
বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি কে. বিনোদ চন্দ্রনের ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দেন। তারা একটি আপিল মামলার শুনানিতে বলেন, ওয়াকফ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যেই রয়েছে। কোনো সম্পত্তি যদি আইনের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ওয়াকফ হিসেবে তালিকাভুক্ত না হয়, তাহলে সেই সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে নিষেধাজ্ঞা বা অন্য কোনো নির্দেশ দেওয়ার অধিকার ট্রাইব্যুনালের নেই।
এই মামলার সূত্রপাত হয়েছিল একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সকে ঘিরে। অভিযোগ ছিল, ওই ভবনের নিচতলার একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে নামাজের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে এবং তাই সেটিকে ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করা উচিত। সেই দাবি তুলে কয়েকজন ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হন, যাতে সেখানে প্রার্থনায় বাধা না দেওয়া হয়। তবে জমির মালিকরা আদালতে জানান, ওই সম্পত্তি কখনোই ওয়াকফ হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি এবং সরকারি নথিতেও তার কোনো উল্লেখ নেই।
সুপ্রিম কোর্ট এই যুক্তিকেই গ্রহণ করেছে। আদালত আগের কিছু রায়ের উল্লেখ করে জানায়, ওয়াকফ তালিকায় নাম থাকা ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার জন্য একটি বাধ্যতামূলক শর্ত। ধারা ৮৩ ট্রাইব্যুনালকে সীমাহীন ক্ষমতা দেয় না বলেও আদালত স্পষ্ট করেছে।
আদালত আরও জানায়, ২০১৩ সালের সংশোধনীতে ট্রাইব্যুনালের কিছু ক্ষমতা বাড়ানো হলেও, কোনো সম্পত্তির মর্যাদা নির্ধারণের বিষয়ে তার মৌলিক ক্ষমতায় পরিবর্তন আসেনি। ফলে এই মামলাটি ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা ঠিক হয়নি। ট্রাইব্যুনাল ও হাইকোর্টের আগের নির্দেশ বাতিল করে মামলা খারিজ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষ চাইলে বিষয়টি সাধারণ দেওয়ানি আদালতে তুলতে পারবে বলেও আদালত জানিয়ে দিয়েছে।


